ঈশ্বরের টানে পাথুরে টিলায় গড়েছেন শিবমন্দির ও ফুলের বাগান এক আদিবাসী বৃদ্ধ

#মালবাজার: ঈশ্বরের টান বড়ই অমোঘ। কেউ ঈশ্বরের টানে ঘরবাড়ি ছেড়েছেন। আবার কেউ নিজের সবকিছু দিয়ে গড়ে তুলেছেন সুদৃশ্য মন্দির।সেই মন্দিরের টানে মানুষ আসে ভগবান দর্শনে। আশেপাশের দৃশ্য যদি মনোরম হয় তবে সেখানে বেশ কিছু সময় কাটিয়ে দেওয়া যায়। ঠিক এইরকম ভাবে ঈশ্বরের টানে ডুয়ার্সের  মেটেলি ব্লকের নাগেশ্বরী চাবাগানের এক পাথুরে  পাহাড়ি টিলার উপর স্থানীয় কয়েকজন মানুষের সাহায্যে এক সুদৃশ্য শিবের মন্দির গড়ে তুলেছেন এক আদিবাসী বৃদ্ধ। সুন্দর ফুলের বাগান বানিয়ে আশেপাশের পরিবেশকে করে তুলেছেন মন মুগ্ধকর।
বাঁশ দিয়ে বানিয়েছেন এক অতিথি নিবাস। গোটা বিকাল বসে থেকে সুন্দর ভাবে কাটিয়ে দেওয়া যায় এখানে। মেটেলি বাজার চৌপথি থেকে পশ্চিম দিকে চলে গেছে রাজ্য সরক। এই পথধরে নাগেশ্বরী, জুরন্তি ও ইঙ্গু চাবাগানের মানুষ। মেটেলি বাজার থেকে এই পথ ধরে খানিকটা এগোলেই পড়বে কুরতি নদীর সেতু। সেতু পেরিয়ে ডান দিকের রাস্তা ধরে ৩০০ মিটার গেলেই নজরে পড়বে সুউচ্চ টিলার উপর এক অপরুপ শিব মন্দির। গোটা টিলা জুড়ে রয়েছে গাঁদা সহ অন্যান্য শিতের ফুল। মন্দিরের প্রবেশ পথের পাশেই রয়েছে ধ্যানমগ্ন শ্বেতপাথরের শিবের সুন্দর মুর্তি।
শিবের জটা থেকে ফোয়ারার ঝরে পড়ছে জলের ধারা নিচের পুকুরে। সেখানে সাঁতার কেটে ঘুরে বেরাচ্ছে রাজহাঁস। চারদিকে ফুটে রয়েছে অসংখ্য গাঁদা ফুল। সুউচ্চ টিলার উপর সুন্দর মন্দিরের ভিতর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে শিবলিঙ্গ। পাশেই শ্বেতপাথরের শিব পার্বতী ও গণেশের মুর্তি। পাশেই ঝর্নার জল এসে পড়ছে। পরন্ত বিকালে মন্দিরের পাশে আমি ও সম্রাট খানিকক্ষণ  বসতেই দেখা গেল এক আদিবাসী যুবক তার মেয়েকে নিয়ে মন্দিরের পরিচর্চা করছে। একটু অপেক্ষা করতেই মন্দিরে এলেন সেবাইত গুডু ওঁরাও।পরনে নেই সাত্বিক পূজারি দের মতো ধুতি। একেবারে সাদামাটা হাফপ্যান্ট ও একটা সোয়েটার পড়া। নিজেই জানান তার বয়স ৬৬ বছর।
তারপর জানালেন, “বছর আটেক আগে হটাৎ মনে হলো ভোলাবাবার এক মন্দির বানাই। সেই মতো আশেপাশের কয়েক জনকে নিয়ে পাথরের উপর জঞ্জাল পরিস্কার করে বাঁঁশের এক মন্দির বানাই। তারপর মেটেলি বাজারের এক ব্যাক্তির সাহায্যে গড়ে ওঠে পাকা মন্দির। প্রবেশপথের পাশে তৈরি হয় ধ্যানমগ্ন শিবের মুর্তি। বছরে শিবরাত্রি ও শ্রাবণ মাসে যথেষ্ট ভীড় হয়। অন্যান্য সময়ে ফাঁকাই থাকে”।
আক্ষেপ করে জানান, সারাবছর আমি নিজেই পুজা দেই। গাছে জল দেই। হাঁসদের খেতে দেই।
তবে সহৃদয় মানুষের সাহায্য পেলে আরও কিছু ভালো করা যায়। টিলার উপর থেকে নিচে তাকালে দেখা যায় বয়ে চলছে পাহাড়ি ঝোড়া। বিকালে আদিবাসী মহিলারা তাদের দৈনন্দিন বাসনপত্র সাফাই করছে। অন্যদিকে চলছে পিকনিক। চাবাগানের মাঝে এইরকম এক সুন্দর পরিবেশে বিকালে কয়েক ঘন্টা কাটিয়ে আসা যায়। খরচ বিশেষ  নেই, মেটেলি বাজার থেকে হেটেই যাওয়া যায়।
News Britant
Author: News Britant

Leave a Comment

Choose অবস্থা