হাসপাতালের বিরুদ্ধে অমানবিকতার অভিযোগ, যদিও অস্বীকার করলেন সুপার

#মালবাজার: মাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে এক অমানবিকতার অভিযোগ উঠলো। চিকিৎসারত ভবঘুরে মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীনিকে দেখা  গেল ৫২ কিমি দূরে রাস্তার ধারে পড়ে থাকতে।খবর পেয়ে ডুয়ার্সের বিশিষ্ট সমাজসেবী সাজু তালুকদার তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান। বর্তমানে সেই বয়স্কা রোগীনি শ্রী তালুকদারের আশ্রমে রয়েছেন।
এনিয়ে শ্রী তালুকদার মাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, “সরকার হাসপাতাল গুলির পরিসেবা উন্নত করতে চেষ্টা করে চলছে। কিন্তু, কিছু কিছু হাসপাতাল পরিচয় হীন রোগী ও রোগীনিদের ক্ষেত্রে অমানবিক আচরণ করছে। রাতের বেলা এদিক ওদিক ছেড়ে দিয়ে যাচ্ছে। আজ সকালে আমার পরিচিত একজন খবর দেন যে একজন  পরিচয় হীন অসুস্থ বয়স্কা মহিলাকে মরাঘাট হিন্দি কলেজের কাছে রাস্তার ধারে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
আমি ফটো পাঠাতে বলি এবং সে ফটো পাঠায়। দেখি এই আননোন মাসি মাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি ছিল। মালের একজন তাকে ভর্তি করেছিল।  পা’য়ে ঘা হয়ে পোকা হয়েছিল। স্থানীয় একজন ডাক্তার এনে চিকিৎসা করা হয়েছে। মাল হাসপাতাল বার বার কেন আননোন পেসেন্টদের উপর এ রকম অমানবিক আচরণ করছে। এর আগেও একজনকে মরাঘাট এলাকায় ছেড়ে যায়। রোগীরা বলছে তারা মাল হাসপাতালে চিকিৎসা রত ছিলেন। রোগী যেই হোক তার চিকিৎসা করা হাসপাতালের দায়িত্ব। এভাবে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। সরকারের দেখা উচিত।
জানাগেছে, গত ২৬ ডিসেম্বর মালবাজারের এক প্রাথমিক শিক্ষক সুতীর্থ ঘোষ ওই মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।  এনিয়ে সুতীর্থ ঘোষ জানান, গত ২৬ডিসেম্বর আমি ও আমার স্ত্রী যখন বাড়ি ফিরছিলাম সেই সময় সৎকার সমিতির মাঠে ওই মহিলাকে পড়ে থাকতে দেখি। পায়ে ঘা ছিল। কয়েকটি কুকুর তাকে বিরক্ত করছিল। আমি মানবিক কারনে তাকে তুলে এনে হাসপাতালে ভর্তি করি।পরে হাসপাতাল থেকে আমাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে রোগীর দায়িত্ব নিতে বলে। আমি খানিক বিব্রত হই এবং আমি সেই মতো কোন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার খোঁজ করছিলাম যাদের কাছে পাঠানো যায় । আজ শুনলাম ওই মহিলাকে মরাঘাটের কাছে পাওয়া গেছে।
এনিয়ে মাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের মেডিকেল সুপার প্রিয়াঙ্কুর জানা বলেন, ওই মহিলার চিকিৎসা চলছিল। তবে মানসিক ভারসাম্যহীন থাকায় ওয়ার্ড নোংরা করে ফেলছিল। অন্যান্য রোগীনিদের অভিযোগে তাকে আলাদা ভাবে রেখে চিকিৎসা হচ্ছিল। চিকিৎসার  পরিস্থিতি বুঝে তাকে মেডিকেল কলেজে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যিনি ভর্তি করেছিলেন তাকে আমরা কিছু দায়িত্ব নিতে বলি। কিন্তু, উনি অস্বীকার করেন। আমি বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানাই। এইরকম পরিবেশে গতকাল রাতে আচমকা ওই মহিলা ওয়ার্ড থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। খোঁজ করে না পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী থানায় জানাই।
মাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে এরকম অমানবিক অভিযোগ এর আগেও উঠেছে। এনিয়ে এক বিশিষ্ট সমাজসেবী জানান, এনিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে কোন হাসপাতাল এরকম আচরণ করতে পারে না। যিনি ভর্তি করাচ্ছেন তার পরিচয় জানতে চাইতে পারেনা। এটা এক অমানবিক আচরণ।
News Britant
Author: News Britant

Leave a Comment

Choose অবস্থা