News Britant

Saturday, December 3, 2022

ফুটবল কোচ কে নিয়ে মেতেছে রাই কিশোরীর দল

Listen

( খবর টি শোনার জন্য ক্লিক করুন )

#সুশান্ত নন্দী, ইসলামপুর: প্রত্যন্ত গ্রাম্য এলাকার মেয়েদের ফুটবল কোচিং দিতে নিজের খরচেই রায়গঞ্জ থেকে গোয়ালপুকুর ছুটে আসছেন এক শিক্ষক।উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ব্লকের লক্ষনীয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের শুভঙ্কর নাগ বংশী পেশায় একজন শিক্ষক হলেও নেশায় একজন প্রকৃত ফুটবলারও বটে। স্বপ্নে কিংবা জাগরণে যার পায়ে পায়ে সবসময় ফুটবল ঘোরে; সেই মাস্টারমশাই এই করোনা সংক্রমনের জন্য স্কুল ছুটি থাকলেও স্কুল পড়ুয়াদের পরিবর্তে এখন ফুটবল শেখাচ্ছেন মেয়েদের। যিনি মঙ্গলবার হলেই রায়গঞ্জ থেকে প্রায় একশো কিলোমিটার দূরত্বের গোয়ালপোখরে ছুটে আসছেন।

সঠিক পদ্ধতিতে ফুটবলের প্রশিক্ষণ দিতে বিভিন্ন টিমকে বাইরে থেকে কোচ নিয়ে এসে ফুটবলের প্রশিক্ষণ দেওয়াটা একটা ব্যয়সাধ্য ব্যাপার হয়ে উঠলেও এ ক্ষেত্রে ঠিক তার যেন উল্টোটা। একজন কোচ হলেও সেই দিক থেকে রীতিমতন ব্যতিক্রমী চরিত্র শুভঙ্কর নাগ বংশী। সে এখন ওই মেয়েদের ফুটবলের মাস্টারমশাই। লাগাতার কয়েক ঘণ্টা একটানা কোচিং দেবার পর ক্লান্ত শরীর নিয়ে তিনি দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বাড়ি ফেরেন। তবুও তার মনে বাসা বেধেছে ঐ মেয়েরাও একদিন রাজ্যের হয়ে এবং দেশের হয়ে খেলবে। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে মেয়েদের নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

কথা হচ্ছিল তার সঙ্গে। তিনি জানান, প্রায় তিন মাস ধরে চলছে এই নিঃশুল্ক কোচিং ।রায়গঞ্জ টাউন ক্লাব থেকে তিনি ফুটবলের অনেক কিছু শিখেছেন।  এবং মন প্রাণ দিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন কলকাতা থেকে আসা স্বনামধন্য ফুটবলারদের কাছ থেকেও। এরপরই তার মনে হয়েছে গ্রামেগঞ্জে অনেক প্রতিভা যারা খেলার প্রকৃত কৌশল রপ্ত করতে না পেরে থেমে যাচ্ছে, তিনি তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবেন। যেমনি ভাবা তেমনি কাজ। হঠাৎ নন্দঝাড় ছাত্রসমাজের সম্পাদক চন্দন পাল এর মাধ্যমে খোঁজ পেলেন যে তাদের একটি মহিলাদের টিম রয়েছে। সেখানে প্রয়োজন কোচিংয়ের। খবর পেয়ে তিনি ছুটে গেলেন এবং শুরু করলেন কোচিং।

অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে তিনি গ্রামের মেয়েদের শেখাচ্ছেন ফুটবল খেলার কৌশল এবং পদ্ধতি। তিনি আরো জানান, ফুটবলার হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল বেশ। নানা সমস্যার জন্য সেই প্রতিভাকে নিয়ে আর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। কিন্তু তার মত আর কেউ মাঝপথে থেমে যাক এটা তিনি চাননি। তাই যাদের প্রতিভা রয়েছে তাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটাই এখন তার লক্ষ্য।নন্দঝাড় ছাত্রসমাজের সম্পাদক চন্দন পাল জানান, এমন একজন সমাজ দরদী ব্যতিক্রমী ফুটবলের প্রশিক্ষক পেয়ে তারা রীতিমতো গর্বিত। মহিলা ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা আপাতত সবুজ মাঠে প্রশিক্ষকের নির্দেশ মেনে তালিম নিতে ব্যস্ত।

ফুটবল খেলার সঠিক পদ্ধতি রপ্ত করতে পারলেই এই প্রশিক্ষণের সার্থকতা আশা করা যায়। তাদের দলের মেয়েরা সেটা অবশ্যই পারবে।সেই আশাতেই বুক বেঁধে প্রকৃত ফুটবলার হওয়ার লক্ষ্যে স্বপ্ন পূরণ করতে পায়ে পায়ে ফুটবল নিয়ে এগিয়ে চলছে মেয়েরা। আর দর্শকের আসনে বসে অজস্র মানুষের হাত তালিতে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে তাদের উচ্ছ্বাস।

 

News Britant
Author: News Britant

Leave a Comment