News Britant

Tuesday, September 27, 2022

কিন্নর-কৈলাশের পথে পথে

Listen

( খবর টি শোনার জন্য ক্লিক করুন )


মালবিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : বৃটিশদের তৈরি দেশের অন্যতম সুন্দর শৈলশহর সিমলা থেকেই শুরু হয় কিন্নর ভ্রমন। হাওড়া-কালকা মেলে কালকা পৌঁছে সেখান থেকে টয়ট্রেনে চেপে অপরূপ নিসর্গ ছুঁয়ে ছুঁয়ে এ শহরে পৌঁছানো। ৯৬ কিমি যাত্রাপথে উপরি পাওনা ১০৩ টি টানেল পেরোনোর অ্যাডভেঞ্চার।
অক্টোবরের মাঝামাঝি এ শহরে সন্ধ্যে নেমে আসে ঝুপ করে। নরম কুয়াশা ভেজা ঠান্ডার পরশ নিতে নিতে ঘুরে দেখে নিই জমজমাট ম্যলের অজস্র দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট। ম্যলের এককোণে হলুদ রঙা বিখ্যাত অ্যাংলিসিয়ান চার্চ। এছাড়াও রয়েছে শ্যামলাদেবী আর মঙ্গলচন্ডী মন্দির, সিমলা মিউজিয়াম। ম্যল থেকে মাত্র ৪ কিমি দূরে লর্ড ডাফরিনের প্রাসাদে গড়ে উঠেছে ইন্সটিটিউট অব অ্যাডভানস স্টাডিজের ছবির মত ক্যাম্পাস, ২ কিমি দূরে রয়েছে জাখু হিলস। এছাড়াও দেখলাম তারাদেবীর মন্দির, সংকটমোচন মন্দির, চ্যাডউইক ঝরনা আর অপূর্ব সুন্দর পাইনবন।

সিমলা ছেড়ে সকাল সকাল রওনা হলাম কিন্নরের উদ্দেশ্যে। এপথের প্রতিটি বাঁকে প্রকৃতি তার সৌন্দর্যের পশরা মেলে ধরে।কুফরি, নারকান্ডা পেরিয়ে রামপুরে লাঞ্চ সারা হল। রামপুরের পদম প্যালেস দেখে আবার যাত্রা শুরু বুশাহার রাজাদের প্রাচীন রাজধানী সারাহানের উদ্দেশ্যে। শ্রীখণ্ড পাহাড়ের কোলে অবস্থিত সারাহানের পবিত্র ভীমাকালী মন্দিরটি সুপ্রসিদ্ধ। মন্দির লাগোয়া থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে। মন্দিরের পাশ দিয়েই রাস্তা চলে গেছে বুশাহার রাজাদের প্রাসাদে। এখানে প্রবেশ নিষেধ। তবে, আপেল বাগানের মধ্যে দিয়ে আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে অলস পায়ে হেঁটে আসুন অবশ্যই।

সারাহানের পরই পড়বে আরো দুইটি ছবির মত সুন্দর গ্রাম- সাংলা আর ছিটকুল। শীতে গ্রামদুটি পুরু বরফে ঢেকে যায় আর বাকি সময় চোখজুড়ান সবুজ। বস্পার পাড় জুড়ে গড়ে ওঠা সাংলা-ছিটকুলে পাইন আর আপেল গাছের সমারোহ। এখানকার কামরু মনাস্ট্রিটি দর্শনীয়। এছাড়াও অবিরাম বয়ে চলা বস্পা, চারপাশে উত্তুংগ তুষারধবল হিমেল চূড়া আর তার মাঝে পাইন-ধুপির ছায়াঘন সাংলায় সময় যেন থমকে আছে। চাইলে একরাত থাকুন সাংলা-ছিটকুলের মধ্যবর্তী রকছামে। ৩৪৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত ভারতের শেষ জনপদ ছিটকুলে এলে মনে হবে, স্বর্গ বলে যদিবা কিছু থেকে থাকে তবে সে এখানেই।

ছিটকুলকে ফেলে আমাদের এগিয়ে চলতে হয় কল্পার দিকে। করছাম থেকে আরেকটু এগোলে রেকংপিও, কল্পার সদর শহর। কল্পার চারিদিকে কিন্নর-কৈলাশের ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ। এই কিন্নর-কৈলাশ পর্বতমালায় দেখা যায় শিবলিঙ্গ আকৃতির ৮০ ফুট উঁচু একটি শিলাখন্ড, যেটিকে স্থানীয়রা শিবজ্ঞানে পূজা করেন। সূর্যের আলো পড়ে প্রতিমুহূর্তে এর রঙ বদলায়। কল্পার আপেলের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। অক্টোবর মাসে বাগানগুলি আপেলের ভারে ঝুলে রয়েছে। কাছেই দুটি গ্রাম- চিনি আর রোঘী। এখানের অপরূপ সামদুর-চোলিং বৌদ্ধগুম্ফাটি দেখে নিতে যেন ভুলবেন না।

কীভাবে যাবেন: হাওড়া থেকে কালকা মেল সন্ধে ৭:৪০ এ ছেড়ে তৃতীয়দিন ভোর চারটেয় কালকায় পৌঁছয়। সেখান থেকে শিবালিক এক্সপ্রেস ভোর ৬টায় ছেড়ে বেলা ১১ টায় সিমলা পৌঁছয়। সড়কপথেও গাড়ি কিংবা বাসে কালকা বা চণ্ডীগড় থেকে সিমলা আসা যায়। সিমলা থেকে সারাহানের দূরত্ব ১৮৫ কিমি। রাজ্যপরিবহনের বাস কিংবা প্রাইভেট গাড়িতে আসা যায়। এখান থেকে সাংলা ৫৫ কিমি। সাংলা, রকছাম কিংবা ছিটকুলের পথে গাড়ি ভাড়া করে নেওয়াই সুবিধাজনক। গাড়ি পাওয়া যায় সিমলার লক্করবাজার স্ট্যান্ড থেকেই। সিমলা থেকে কল্পার দূরত্ব ২৫৬ কিমি।

কোথায় থাকবেন: সিমলাতে প্রচুর ভালো প্রাইভেট হোটেল রয়েছে। এছাড়াও থাকতে পারেন হিমাচল প্রদেশ ট্যুরিজমের হলিডে হোম কিংবা সিমলা কালীবাড়িতে।সারাহানে হিমাচল ট্যুরিজমের হোটেল শ্রীখন্ড,সাংলাতে হোটেল দেবলোক,অ্যাপেল পাই, মোনাল রিজেন্সি,ছিটকুলে যাযাবর ক্যাম্প রিসর্ট,কল্পাতে হিমাচল ট্যুরিজমের “কিন্নর -কৈলাশ”, কৈলাস কটেজে থাকবার ব্যবস্থা খুবই ভাল।

ছবি: সুপ্রতিম মণ্ডল

News Britant
Author: News Britant

Leave a Comment