News Britant

Thursday, August 11, 2022

সম্প্রীতির নিদর্শনে কবরস্থানেই কালী মন্দির, জমি বেদখল রুখতে পাঁচিল চান হিন্দুরাও

Listen

#রায়গঞ্জঃ এটি একটি সরকার ঘোষিত কবরস্থান। অথচ সেই কবরস্থানেই রয়েছে কালী মায়ের মন্দির। তৈরি হয়েছে গরু রাখার গোশালা, জামা কাপড় শুকোনোর জায়গা, মাঠে চলছে ঘুঁটে দেওয়া, গরু, ছাগল চড়ানো, একপাশে খেলছে শিশু, কিশোরদের দল। এরকম একটি কবরস্থানের জমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে,  এমন অভিযোগ তুলে এবার সেই কবরস্থানকে ইটের পাঁচিল গড়ে জমি বাঁচানোর ডাক দিলেন জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে স্থানীয় হিন্দু ও ইসলাম ধর্মের বাসিন্দারা।
রায়গঞ্জ ব্লকের ১১ নম্বর বীরঘই গ্রাম পঞ্চায়েতের বাজিতপুর গ্রামে রয়েছে প্রায় সাড়ে ১০ বিঘা জমির ওপর ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের একটি কবরস্থান। সেই কবরস্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের সামাজিক ও গৃহস্থালি কার্যকলাপ। গড়ে উঠেছে কালী মায়ের মন্দির,  নিয়ম মেনে পুজো হয় সেখানে। রয়েছে গোশালা, মাঝখানের সরু রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে পথচারীরা। সাইকেলে মালপত্র এপার থেকে চলেছে ওপারে। মাঠে শুকোচ্ছে জামা কাপড়,  খেলাধুলা করছে ছেলেদের দল। কিন্তু সেই কবরস্থানের জমির বেশ কিছুটা ইতিমধ্যেই বসবাস করার জায়গা হিসেবে দখল হয়ে গেছে। তাই সরকারি কবরস্থান হিসেবে চিহ্নিত জমি যাতে আর বেদখল না হয়ে যায়, সেজন্য পাঁচিল তৈরির ডাক দিলেন ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি হিন্দু ধর্মের বাসিন্দারাও। স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘ঘেরা দেওয়া নেই বলে কবরস্থানের জমি দখল হয়ে যাচ্ছে। ফাঁকা রয়েছে বলে সবাই এভাবে ব্যবহার করছে। সরকারি স্তরে বহুবার বলা হয়েছে, কিন্তু কেউই এই কবরস্থানটি ঘেরা দেওয়ার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’ স্থানীয় বাসিন্দা মইনত আলি বলেন, ‘এটা আমাদের এই এলাকার একমাত্র গোরস্থান। এলাকার ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষেরা এখানে মৃতদেহ নিয়ে এসে মাটি দেয়। কিন্তু ঘেরা না থাকায় এটি জবরদখল হয়ে যাচ্ছে। মেম্বার উদ্যোগ নিলে কাজটি করা সম্ভব হবে। কিন্তু পাঁচিল না হলে জমি বেদখল হয়ে যাবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা শ্যামা প্রসাদ দাস বলেন, ছোট থেকেই দেখছি এই কবরস্থানের পাশের জমি কিছু কিছু জায়গায় দখল হয়ে গেছে। যতটুকু জমি এখনও আছে, সেটুকু শীগগিরই ঘেরা দেওয়া দরকার, নইলে সেগুলোও দখল হয়ে যাবে। চন্দন দাস বলেন, এটা ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের কাছে পবিত্র জায়গা। এই পবিত্র জায়গার পবিত্রতা বজায় থাকুক। কিন্তু দিনদিন দখল হয়ে কবরের জায়গা কমে আসছে। কংক্রিটের প্রাচীর তৈরি হয়ে গেলে জমিটুকু রক্ষা পাবে।’ অভিযোগের কথা স্বীকার করলেন স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য মনসুর হাবিবুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে বহুবার পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদকে জানানো হয়েছে। এখানে ৫০০র বেশি ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষেরা বসবাস করেন। কিন্তু মোট জমির বিঘা দুই দখলে চলে গেছে। এখানে হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষজন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে চলে। তাই কবরস্থানের মধ্যেই গড়ে উঠেছে কালী মন্দির। কেউই বাধা দেয়নি। কিন্তু এলাকায় ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষদের দাবি মেনে যতটুকু জমি এখনও দখল হয়ে যায়নি, সেটুকু শীগগিরই ঘেরা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আবারও জানাবো। আশা করছি, এই কাজটি করতে পারব।’
News Britant
Author: News Britant

Leave a Comment