News Britant

Thursday, August 11, 2022

উদ্ভাবনী গবেষণায় সাফল্য, DST’র অনুদান পেলেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অমিত মন্ডল

Listen

#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ উদ্ভাবনী গবেষণায় একের পর এক সাফল্য আনছেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের Center for Nano technology Science এর অধিকর্তা তথা তরুন অধ্যাপক ডঃ অমিত কুমার মন্ডল। এবার তাঁর উদ্ভাবনী গবেষণার স্বীকৃতি স্বরূপ ভারত সরকারের DST থেকে পেলেন ৫০ লক্ষ পর্যন্ত অর্থের অনুদান পত্রের ছাড়পত্র। এই খবর আসতেই খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে।

জানা গেছে,  ভারত সরকারের ডিপার্টমেন্ট অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির শাখা, সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ বোর্ড বিজ্ঞানের নতুন এবং উদীয়মান এলাকায় স্বাধীন গবেষণাকে সমর্থন করে। এক্ষেত্রে সারা ভারতের প্রতিশ্রুতিশীল বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পগুলিকে স্বাগত জানানো হয় এবং উদ্ভাবনী গবেষণাপ্রকল্পগুলি নির্বাচিত হলে বিজ্ঞানীদের পঞ্চাশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হয়। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরিকালচার বিভাগের অধ্যাপক তথা সেন্টার ফর ন্যানোটেকনোলজি সায়েন্সের অধিকর্তা এবং তরুণ বিজ্ঞানী ডঃ অমিত কুমার মন্ডলের নতুন গবেষণা প্রকল্প “বায়োসেন্সরের মাধ্যমে রেশমকীটের রোগসৃষ্টিকারী প্যাথোজেনের দ্রুত সনাক্তকরণ” নির্বাচিত হয়েছে এই সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ বোর্ডের অধীনে।

এদিন অধ্যাপক অমিত কুমার মন্ডল বলেন, ‘চীনের পরে ভারতেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে রেশম উৎপাদন করা হয়। তাই ভারত হল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রেশম উৎপাদনকারী দেশ। কিন্তু বর্তমানে রেশমকীটের বিভিন্ন রোগের আধিক্যের কারণে এই কৃষিভিত্তিক কুটিরশিল্প গভীর সংকটে রয়েছে। তাই আমার গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হল, রেশম চাষকে ক্ষতিগ্রস্ত করা রোগজীবাণুগুলি দমন করা। এর জন্য কম খরচে এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য বায়োসেন্সর তৈরী করা। এই বায়োসেন্সর তৈরি হয়ে গেলে রেশম চাষে ব্যাপক উন্নয়ন হবে।

ফলে ভবিষ্যতে ভারতের অর্থনীতিকে উন্নত করবে।’  বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডঃ অমিত কুমার মন্ডল মীরাটের চৌধুরী চরণ সিং কলেজ থেকে B.Sc করে M.Sc এর জন্য  চলে আসেন উত্তর বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়ে Asstt Prof হিসেবে যোগ দেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। অধ্যাপক মন্ডল গবেষণা করেন ন্যানোটেকনোলজি, অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল পেপটাইড, বায়োসেন্সর আর বায়োম্যাটেরিয়াল নিয়ে। ইতিমধ্যেই ডঃ মন্ডলের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে পঞ্চাশটি। আর বইয়ের অধ্যায় লিখেছেন সাতটি। সাথে রয়েছে তিন-তিনটে পেটেন্ট।

গবেষণাপত্রের মধ্যে প্রায় বেশিরভাগই প্রকাশিত হয়েছে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক জার্নালে। এর মধ্যে রয়েছে নেচার পাবলিশিং গ্রুপ, আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি, রয়াল সোসাইটি অফ কেমিস্ট্রি, স্প্রিঞ্জার নেচার, উইলি, এলসেভিয়ার, টেইলার এন্ড ফ্রান্সিস, বায়োমেড সেন্ট্রাল ইত্যাদি। সম্প্রতি তিনি রয়াল সোসাইটি অফ কেমিস্ট্রির (ইউ.কে.) পক্ষ থেকে MRSC সম্মানেও ভূষিত হয়েছেন। অধ্যাপক মন্ডলের এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক পৌলমী দাম। তাঁর কথায়, ‘এটা আমাদের রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আশির্বাদ স্বরূপ।  এত বড় মাপের সাফল্য সত্ত্বেও উনি এখনও সবসময়ই পড়াশোনার মধ্যে থাকেন এবং নতুন গবেষকদের নিয়ে একসাথে গবেষণার মানোন্নয়নে মগ্ন থাকেন।

এই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করবে, পাশাপাশি, গবেষণার শ্রীবৃদ্ধি হবে।’ খড়গপুরে জন্ম গ্রহণ করা অধ্যাপক মন্ডলের বাবা দীপক মন্ডল, মা রেখা মন্ডল সহ পরিবারের সদস্যরা তার এই কর্মকাণ্ডের সাথে আছেন বলে জানালেন অধ্যাপকের স্ত্রী শুভশ্রী মন্ডল। অধ্যাপক মন্ডলের গবেষণা আরও সাফল্য আনুক এবং পড়ুয়ারা সেই সুযোগ নিয়ে এগিয়ে চলুক, এমনটাই চান বলে জানিয়েছেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক ডঃ দুর্লভ সরকার।

News Britant
Author: News Britant

Leave a Comment