News Britant

Wednesday, August 17, 2022

হেমতাবাদে খোলা আকাশের নিচেই অভিনব কায়দায় শিক্ষাদান শিক্ষকের, ভাইরাল ভিডিও

Listen

#হেমতাবাদঃ করোনা আবহে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে পঠনপাঠন বন্ধ থাকার পর অবশেষে রাজ্য সরকারের ঘোষণা মোতাবেক পাড়ায় পাড়ায় শিক্ষালয় কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দ্বারা খোলা আকাশের নিচে পঠন পাঠন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে গোটা রাজ্যজুড়ে। তেমনই এক পাড়ায় শিক্ষালয়ে এক শিক্ষকের পাঠ দানের অভিনব কায়দার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

যে ভিডিওতে দেখা গিয়েছে,  স্কুলের সামনের মাঠে বৃত্তাকারে দাঁড়িয়ে রয়েছে খুদে পড়ুয়ারা। তাদের মাঝে হেমতাবাদ ব্লকের বাঙালবাড়ি নিম্ন বুনিয়াদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারী শিক্ষক শ্যামল পাসওয়ান বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গীর মাধ্যমে ছড়া বলছেন। ‘মুনিরাম মুন্সি/কোমরেতে ঘুনসি/নাক দিয়ে শাক খায়/কনুইয়ের ধাক্কায়/ঢিবি ভেঙে উই ধরে/মই দিয়ে সই করে/যত হেঁটে চলে সে/তত বেটে হয় সে’ সেই ভিডিয়োতে, কালো প্যান্ট, ঘিয়ে কালো সোয়েটার, গলায় ঝুলছে সাদা মাফলার, পায়ে নীল জুতো পরে পড়ুয়াদের মাঝে দাঁড়িয়ে তাদের ছড়া মুখস্থ করাচ্ছেন শিক্ষক।

শুধু তাই নয় পড়ুয়াদের সেই ছড়ার প্রতিটি বাক্যের মানে বোঝাতে শ্যামল বাবু কখনও সামনের দিকে ঝুঁকে দু’হাত মুখের সামনে এনে খাওয়ার ভঙ্গি করছেন, কখনও আবার দু’হাত নাড়িয়ে ও সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার ভঙ্গি করছেন, ডানহাত ঘুরিয়ে সই করার ভঙ্গি ও দুই হাঁটু ভাজ করে বেঁটে হয়ে হাঁটার অঙ্গভঙ্গিও করছেন তিনি। শ্যামলবাবুর  মুখ থেকে সেই ছড়ার একেকটি বাক্য শোনার পর সেই রেশ ধরে পড়ুয়ারাও একযোগে সেই বাক্য বলছে। ভিডিওটি তার সহকারি শিক্ষক সোশ্যাল মিডিয়ায় দিতেই রীতিমত ভাইরাল হয়েছে।যথেষ্ট শুভেচ্ছাও কুড়িয়েছেন নেটিজেনদের।

শ্যামল বাবু বলেন,  তিনি ওই ভাবেই শিশুদের পড়িয়ে থাকেন। এতে শিশুরা পড়ার প্রতি আকর্ষিত হয় এবং পড়ার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। দু বছর স্কুল বন্ধ থাকার কারণে অনেক শিশুরাই স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে।  তবে তার এই অভিনব উদ্যোগ দেখে শিশুরা বিদ্যালয়মুখী হচ্ছে।

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা অর্জুন পাসওয়ান জানিয়েছেন,  শ্যামল বাবু আগাগোড়াই এই কায়দায় পাঠদান করে থাকেন। এতে শিশুদের পঠন পাঠন এর প্রতি আগ্রহ বাড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় তারা খুসী। প্রত্যেক শিক্ষকই যদি চিরাচরিত ভাবে না পড়িয়ে, একটু ভিন্ন  কায়দায় খেলার মাধ্যমে পঠন- পাঠন করায় তাহলে শিশুদের বিদ্যালয়ের প্রতি আকর্ষণ বাড়বে।

অপর দিকে এই ব্যাপারে হেমতাবাদের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক জয়ী দেবনাথ বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা অনেক ছোটো। তাই তাদের খেলার ছলেই শিক্ষা দান করতে হবে। সমস্ত শিক্ষকরাই যদি খেলার ছলে পড়ানোর চেষ্টা করে তবে শিশুদের পঠন-পাঠনে আরও আগ্রহ বাড়বে বলে আশাবাদী তিনি।

News Britant
Author: News Britant

Leave a Comment