News Britant

Tuesday, September 27, 2022

মানব কম্পিউটার শকুন্তলা দেবী : অঙ্কে জিনিয়াস এক মায়ের জীবন মেয়ের দৃষ্টিতে

Listen

( খবর টি শোনার জন্য ক্লিক করুন )

পরিচালনা : অনু মেনন

অভিনয় : বিদ্যা বালান, সানিয়া মালহোত্রা, যিশু সেনগুপ্ত, অমিত সাধ

দেবলীনা ব্যানার্জী: তিনি ছিলেন মানব কম্পিউটার, সারাজীবন নম্বর নিয়ে খেলা করেছেন। কিন্তু তিনি যে একজন মহিলা,  তাই হয়ত অঙ্কে জিনিয়াসের জীবন নিয়ে তৈরি ছবির গল্প মা মেয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েনের দলিল হয়ে উঠল বেশি। এটাই স্বাভাবিক।  যেকোনো মহিলা তিনি জিনিয়াস হলেও সম্পর্কের তাঁর থেকে একটু হলে অতিরিক্ত দাবি করে সমাজ, সংসার এমনকি সন্তান।

প্রতিনিয়ত মাকে ভুল বুঝতে থাকা মেয়ে যখন নিজে মা হয়, তখনই বুঝতে পারে নিজের মায়ের ভেতরের মানুষটাকে। এই একটা লাইনের ওপর ভিত্তি করেই অনু মেননের ছবি ‘শকুন্তলা দেবী’র গল্প এগোতে থাকে। গল্পের শেষে দুই মেয়ে যারা জীবনের লক্ষ্যই স্থির করেছিল যে নিজের মায়ের মত কিছুতেই হবে না, তারা নিজেদের লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া জীবনের আনন্দযজ্ঞে সামিল হয়। তাই এই গল্প যতটা শকুন্তলা দেবীর,  ঠিক ততটাই তাঁর মেয়ে অনুপমা ব্যানার্জিরও।

আর এই দুই চরিত্রে বিদ্যা বালান ও সানিয়া মালহোত্রা দুজনেই অসাধারণ। এবার মূল গল্পে আসি।এক সাধারণ মেয়ের অঙ্কে জিনিয়াস হয়ে ওঠার বাস্তব গল্প শকুন্তলা দেবী। বায়োপিকের শুরু হয় যখন শকুন্তলা দেবীর বয়স তিন বছর। সেখান থেকেই বিদেশে পাড়ি, অঙ্ক কষে সকলের মন জয় করা। তবে জীবনের জটিল অঙ্ক সমাধানে বেজায় বেগ পেয়েছিলেন তিনি। কীভাবে দুই দিকে ভারসাম্যে নাজেহাল হয়েও বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি গল্পের প্রতিটা ভাঁজে তারই নিদর্শণ।

লন্ডন সফর থেকে শুরু করে পরবর্তীতে সংসার জীবন, প্রতিটা দৃশ্য জীবন্ত হয়ে ফুটে উঠেছে। একজন গণিত জিনিয়াসই নন শকুন্তলা দেবী বাস্তব জীবনেও স্বাধীনচেতা, দৃঢ় মানসিকতা সম্পন্ন ছিলেন। শৈশবেই তাঁর প্রতিভা টের পেয়ে বাবার হাত ধরে একের পর এক শো-এ হাজির হতেন তিনি। সেই কারণে স্বাভাবিক শৈশব উপভোগ করতে পারেননি। তবে ঠিক করে নিয়েছিলেন, জীবনে “বড়া আদমি নয়, বড়ি অউরত” হবেন তিনি।

শৈশবে যেমন স্বাভাবিকত্ব অর্জন করতে পারেননি। সেই বহমানতা রয়ে গিয়েছে বাকি জীবনেও। ইংল্যান্ড পর্বেই যেমন! অচেনা দেশে অন্য একসেন্টে, অদ্ভুত পোশাকে শিক্ষা-জীবন কাটিয়েছেন। সম্পর্কে জড়িয়েছেন বিদেশী পুরুষের সাথে।এরপর সাংসারিক জীবন। যীশু সেনগুপ্তের সঙ্গে আলাপ পরিণয় এবং স্ত্রী-জীবন। তারপর মাতৃত্ব। সাংসারিক জীবনের নাগপাশে বাঁধা পড়লেও তিনি ছিলেন স্বকীয়তায় ভরপুর।

সংখ্যায় তাঁর পরিচয়। সংখ্যায় বাঁচতেন তিনি। সংখ্যা তার জীবন জুড়েই। ছবিতে অল্প হলেও দেখানো হয়েছে রাজনৈতিক সত্ত্বাও। লোকসভায় ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। অভিনয়ের ক্ষেত্রে সহ অভিনেতারা সকলেই ভালো কাজ করেছেন। মা ও মেয়ের স্বামী হিসাবে যীশু সেনগুপ্ত এবং অমিত সাধও নিজেদের চরিত্রে যথাযথ। এই ছবির মূল দুটি ধাপ।

প্রধম ধাপে মজার ছলে অঙ্ক নিয়ে রসিকতা, অন্যদিকে ১৯৭০ দশকে মেয়েদের জীবনের সংগ্রাম ও সম্পর্কের টানাপোড়েন। সেই সময়ে সংসার ও স্বপ্ন দুই ভারসাম্য বজায় রেখে পথ চলাটা কঠিন হলেও ময়দান ছেড়ে চলে যাননি শকুন্তলা দেবী, ছবির গল্পে লুকিয়ে থাকা এই কঠিন লড়াই যেন শুধু মানব কম্পিউটারের নয়, আজকের সময়েও স্বপ্নের পিছু ধাওয়া করা প্রতিটা মেয়ের লড়াইয়ের গল্প।

News Britant
Author: News Britant

Leave a Comment