News Britant

Tuesday, September 27, 2022

দীর্ঘ ২০ বছরের যন্ত্রণার অবসান মন্ত্রীর হাত ধরে খুলে গেল রেডব্যাংক

Listen

( খবর টি শোনার জন্য ক্লিক করুন )

#মালবাজারঃ দীর্ঘ ২০ বছরের যন্ত্রণার অবসান হলো। অবশেষে রাজ্য সরকারের আন্তরিক উদ্যোগে রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণীর কল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী বুলু চিকবরাইকের হাত ধরে খুলে গেল ডুয়ার্সের বানারহাট ব্লকের রেডব্যাংক ও সুরেন্দ্র নগর নামের দুটি চাবাগান। এরসাথে খুশির হাওয়া বইতে শুরু করলো চা বাগানের প্রায় ৭০০ শ্রমিক পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।

প্রায় ২০ বছর বন্ধ ছিল ডুয়ার্সের এই দুটি চা বাগান। গত ২৮ জুলাই শিলিগুড়ির দাগাপুর শ্রমিক ভবনে এক চুক্তির মাধ্যমে এই দুটি চাবাগান পরিচালনার ভার হাতে তুলে নেন নতুন মাল সুশীল কুমার পল। সেদিনই ঘোষণা করা হয়েছিল যে ১০ আগস্ট থেকে খুলে যাবে এই দুই চা বাগান।

আগেই চুক্তি মতো অন্য মালিকের হাত ধরে খুলে গেছে ধরনীপুর চাবাগান। কথা মতো বুধবার দুপুরে রীতিমতো ফিতে কেটে চাবাগানের নতুনভাবে চলার পথের সূচনা করেন মন্ত্রী শ্রী চিকবরাইক। এদিন এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইএনটিটিইউসির জেলা সভাপতি রাজেশ লাকরা, শ্রমিক নেতা পুলিন গোলদার, চাবাগানের নতুন মালিক এবং বিশিষ্ট জনেরা।

ডুয়ার্সের রেডব্যাংক, সুরেন্দ্রনগর ও ধরনীপুর একদা ঐতিহ্যময় চাবাগান হিসাবে পরিচিত ছিল। চাবাগানে ছিল মিনি চিড়িয়াখানা, সুদৃশ্য বাংলো ও মনোরম পরিবেশ।চাবাগানে দুর্গাপূজা থেকে অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠান নিয়মিত হতো। এক সময় এই চাবাগানে কাটিয়ে গেছেন বহু বিশিষ্ট জনেরা। অশোককুমার, বৈজয়ন্তী মালার বিখ্যাত সিনেমার শুটিং ডায়না পারের এই চাবাগানে হয়েছিল। 

এহেন এক ঐতিহ্যময় চাবাগানের কালো দিন ঘনিয়ে আসে গত শতকের শেষ দিকে। অবশেষে বর্তমান শতাব্দীর গোড়ায় বন্ধ হয়ে যায় এই চা বাগান। মাঝে ২০১২ সালে কিছুদিনের জন্য এই চাবাগান খুললেও পরে আবার বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৪ সালে রাজ্য সরকার এই চাবাগানটি অধিগ্রহণ করে। কিন্তু, বাগান তালা আর খোলেনি। আজ নতুন ভাবে বাগান খোলার পর মন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, ২০১২  সালের মতো খুলে আবার বন্ধ হবে না তো?  

জবাবে মন্ত্রী বলেন, আগে যারা খুলেছিল তাদের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে বর্তমান মালিকের লক্ষ্য সম্পুর্ন আলাদা। উনি বাগানের সাথে কারখানার কাজও শুরু করবেন। উনি ভালো ভাবে চালাবেন। বাগান আগের মতো স্বাভাবিক ভাবে চলবে। এদিন বাগান খোলার আগে প্রথা মেনে অতিথিদের বরন করা হয়। শ্রমিকদের মধ্যে বয়ে যায় খুশির হাওয়া। বন্ধ হওয়ার আগে এই দুটি চাবাগানে শ্রমিক ছিল প্রায় ১১০০ জন। বর্তমানে রয়েছে ৬৯৯ জন।দীর্ঘ ২০ বছরে অনেকের বয়স অবসরের সীমা পেরিয়ে গেছে। কেউ আবার মারাও গেছে। এই পরিবেশে বাগান খুলে যেতে সবাই খুশি। 

Leave a Comment