News Britant

Thursday, August 11, 2022

পুজোর ছুটিতে আপনার অপেক্ষায় লাটপাঞ্চরের পাহাড়ি গ্রাম

Listen

জাগরী চট্টোপাধ্যায় : প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততার ফাঁকে একটানা দিন পাঁচেকের বিরতি পেলেই ভ্রমণপিয়াসী বাঙালীমন খুঁজে বেড়ায় পাহাড়ের সারি কিংবা সাগরের ঢেউভাঙা বালুময় তট।  গরমের ছুটি আর পুজোর ছুটির সময় অনেক আগেই শুরু হয়ে যায় ভ্রমনের হিসেব নিকেশ।পশ্চিমবাংলার মানুষ হিসেবে আমার মতো সবাই বছরভর গরমে হাসফাঁস করি বলেই আরাম আর আয়েসের চারটি ছুটির দিন কাটাতে ছুটে যেতে চাই পাহাড়ের শীতল কোলে।গাড়ীর চাকা পাহাড়ি পথে ঘুরতে শুরু করলেই প্রতিটি বাঁক অপেক্ষায় থাকে চোখ ভরে দেখার মতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ডালি নিয়ে। কতো অজানা পাহাড়ী পথ আর উপত্যকার ঢালে এলোমেলো ভাবে বাড়ি ঘরদিয়ে সাজানো ছোট ছোট আদুরে গ্রাম। এ পথগুলোতে আগে হয়তো বাইরের মানুষের খুব একটা যাতায়াত ছিলো না কিন্তু ভ্রমণপিপাসু  মানুষের মন সবসময়েই চেনা  জায়গার গণ্ডী পেরিয়ে  খুঁজে বেড়ায় অচেনা অজানা গন্তব্য।  এরকমই একটি পাহাড়ী গ্রাম লাটপাঞ্চর ।

শিলিগুড়ির খুব কাছে হাতে ২-৩ দিনের ছুটি থাকলেই অনায়েসে বেড়িয়ে পরতে পারেন মহানন্দা অভয়ারণ্যের কোলে হাজারো পাখি, প্রজাপতি আর হর্নবিল পাখির সাম্রাজ্যে ।  হিমেল বাতাসে মন ভরে যাবে এর প্রাকৃতিক রূপ আর অজানা পাখির কলতানে । এখানে যেতে খুব কষ্ট করতে হবে না আপনাকে। শিলিগুড়ি থেকে কালীঝোড়া যেতে লাগবে এক ঘন্টার মতো আর কালীঝোড়ায় চলার পথে হঠাৎ বাঁ দিকে লুকিয়ে থাকা একটি ছোট্ট পাহাড়ি পথ সোজা উঠে গেছে লাটপাঞ্চরে । পাহাড়ি বাঁকে চলতে চলতে আচমকাই ধরা দেবে সে,  যেন ঘোমটার আড়ালে সুন্দরী এক বউ নাম ‘লাটপাঞ্চর’ । এখানে থাকতে হ’লে পেয়ে যাবেন পদম গুরুং এর হোম-স্টে  এর সুন্দর থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা । গুরুং পরিবারের উষ্ণ অভ্যর্থনা আপনার মন ভরাবেই।  সেখান থেকে চাইলে গাড়ি করে আধ ঘন্টার পথ পেরিয়ে আরো একটু চড়াই পথে উঠে গিয়ে থাকতে পারেন অহলদ্বারাতেও। সেখানেও ভ্রমণার্থীদের থাকার জন্য রয়েছে পদম গুরুং এর তিনটি কটেজ । নির্জন প্রকৃতির কোলে জনমানব শুন্য অহলদ্বারায় শুধু দুচোখ ভরে উপভোগ করতে পারেন পাহাড়ের এক অকৃত্তিম স্বর্গীয় সৌন্দর্য। সিঙ্কোনা গাছের লালে লাল হয়ে থাকা পাহাড়ী  নি্সঙ্গ পথে খুঁজে পেতে পারেন নিজেকেও ।

চোখের সামনে ৩৬০ ডিগ্রী দৃশ্যমান পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে মেঘ আর কুয়াশার সাথে খেলা করছে সোনালী রোদ্দুর।  নীচে ডুয়ার্সের সবুজ অরণ্য আর পাহাড় থেকে সমতলে নেমে দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া তিস্তা নদী।  একটি গাড়ি ভাড়া করে অল্প সময়েই ঘুরে দেখে নিতে পারেন প্রাচীন বৌদ্ধ গুম্ফা। প্রায় সম্পূর্ণ মাটি দিয়ে তৈরি চারশো বছরের এই প্রাচীন গুম্ফায় দাঁড়িয়ে শিহরিত হবে মন। পথে গাড়ি দাঁড় করিয়ে দেখে নিতে পারেন নাম্থিং লেক আর সুযোগ পেলে দেখাও মিলতে পারে লেকের বাসিন্দা প্রাগঐতিহাসিক প্রানী স্যালামেন্ডার রেপ্টাইলের , মহানন্দা অভায়ারন্যের নিস্তব্ধতায় দেখা মিলতে পারে গজরাজেরও , পাহাড়ের এই উচ্চতায় হাতির আনাগোনার কাহিনী অবাক করবে আপনাকে । তাই আর দেরি কেনো ?  খোলা আকাশের নীচে পাহাড়ি গ্রাম লাটপাঞ্চরে কাটিয়ে আসতেই পারেন  আপনার ছুটির দু-তিনটি দিন।

কিভাবে যাবেন ?  

কোলকাতা থেকে যেকোনো দুরপাল্লার ট্রেনে করে পৌঁছে যান নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে । সেখান থেকে গাড়ি রিজার্ভ করে পৌঁছে যান লাটপাঞ্চরে । ভাড়া পরবে প্রায় ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা। তবে সময় অনুযায়ী ভাড়া ওঠানামা করে। গাড়ীর ব্যাপারে পদম গুড়ুং এর সাথেও যোগাযোগ করতে পারেন।

কোথায় থাকবেন ?

লাটপাঞ্চরে থাকার জন্য পদম গুড়ুঙের দুটি হোম স্টের ব্যবস্থা রয়েছে। থাকা খাওয়া প্রতিদিন জনপ্রতি ৮০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। আর অহলদ্বারায় থাকা খাওয়া জন প্রতি ১২০০ টাকা থেকে ১৪০০ টাকা। ফোনের সিগনাল থাকেনা বললেই চলে। তেমন হলে এস.এম.এস করে রাখুন। ওনারাই যোগাযোগ করে নেবেন আপনার সাথে। ফোন নাম্বার – 9475959974

News Britant
Author: News Britant

Leave a Comment