News Britant

Sunday, September 25, 2022

ভারতে আটক জেলেদের ফেরত আনার দাবিতে প্রতিবাদ মূখর বাংলাদেশের উপকূলীয় ৩ লাখ জেলে

Listen

( খবর টি শোনার জন্য ক্লিক করুন )

#হাবিবুর রহমান, ঢাকা: ভারতে আটকে পড়া জেলেদের ফেরত আনার প্রতিবাদে আন্দোলন মূখী হচ্ছে বাংলাদেশের উপকুলীয়সহ সারাদেশের ৩ লাখ জেলে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব ও প্রাণি সম্পদ সচিব বরাবরে আবেদনে কঠোর দাবির কথা জানানো হয়েছে। এই দাবি সমূহ আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা না হলে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘটে যোগদান করবেন উপকূলীয় এসব জেলে প্রতিনিধিবৃন্দ। বাংলাদেশ উপকূলীয় মৎস্য ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের আহবানে এই ধর্মঘট এর আয়োজন করা হয়েছে বলে সোমবার ইউনিয়নের এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি ও সংশ্লিস্টদের নিকট বরাবরে স্বারকলিপি দেয়ার কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর শ্রম অধিদপ্তর এর সামনে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত উপকূলীয় একটি জেলে প্রতিনিধি গ্রুপ অবস্থান ধর্মঘটে অংশ গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে। এর পর একই দিনে দুপুর ২টায় রাজধানীর বিজয়নগরস্থ ৭৮/এ পুরানা পল্টন লেন( নিচ তলা) ইউনিয়নের কার্যালয়ে জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠিত কাউন্সিল থেকে পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে। এর পর প্রতি জেলায় বিক্ষোভ মিছিল করা হবে।

জানা গেছে, গত মাসে সাগরে হঠাৎ ঝড় ও জলোচ্ছাসের কবলে পড়ে ‘এফ বি সামিয়া’ নামক মাছ ধরার বোটটি ডুবে যায়। এতে ১ জনের মৃত্যু হয় এবং বোটের ১১ জন ও অন্য বোটের ৫জনসহ  মোট ১৬ জন বাংলাদেশী জেলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জীবনতলা থানার দক্ষিণ মাউখালী, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মোহাম্মদ জীবন মোল্লার হেফাজতে রয়েছেন। ভারতে আটকে পড়া এসব বাংলাদেশী জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনাসহ ৪ দফা দাবিতে বাংলাদেশ উপকূলীয় মৎস্য ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়ন গত ৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সামনে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। এ বিষয়ে ইউনিয়নের সভাপতি আনোয়ার হোসেন সিকদার বলেন, ২ শতাধিক বাংলাদেশী জেলে বিভিন্ন সময় সাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ভারতীয় সমুদ্রসীমায় প্রবেশের কারণে সে দেশের কোস্টগার্ড ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে আটক পড়ে কারাগারে রয়েছেল। উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তাদের পরিবার মোনবেতন জীবনযাপন করছে। এ বিষয়ে আমরা অধি দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে এই কঠোর আন্দোলনের প্রস্ততি আমরা নিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, ট্রলার শ্রমিকরা ও বিভিন্ন বন্যা ও প্রতিকূলতার মধ্যে পড়লে ট্রলার শ্রমিকদের উদ্ধারে বাস্তব প্রদক্ষেপ নেওয়ার কেউ নাই। এ জন্য সরকার নৌবাহিনী, কোষ্টগার্ড, নৌপুলিশ এদের দায়িত্ব দিয়েছে কিন্তু গভীর সমুদ্রে যাওয়ার মতো কোন শক্তিশালী নৌযান না থাকায় প্রতি বছর শত শত ফিসিং বোট ও ট্রলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফিসিং বোট ডুবে যাওয়ার বোটের শ্রমিকরা মারা যায়। তিনি বলেন, যে শ্রমিকরা প্রতি বছর শত শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করে এবং দেশের আমিষের চাহিদা মিটাতে বিশার ভূমিকা রাখে, সরকার তাদের জীবন বাঁচাতে তেমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই। ভুলবশত বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে ভারতে গেলে, ভারতীয় কোস্টগার্ড শ্রমিকদের আটক করে জেলে দেয়। তাদের ছাড়িয়ে আনতে পরিবারের সদস্যদের মাসের পর মাস ভারতে যেতে হয়, এতে লাখ লাখ টাকা ব্যয় হয়। আটক বোটটি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায় কিন্তু ভারতের কোন বাটে বাংলাদেশ আটক হলে ভারতে হাই কমিশনার তাদের বোট ও শ্রমিকদেও অল্প সময়ে মধ্যে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশের হাই কমিশনারের সাথে শ্রমিকরা দেখা করাই মুশকিল হয়ে পড়ে এটা হচ্ছে আমাদের দুর্ভাগ্য। এই দুর্ভাগ্য দূর করার দাবিতে এই আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাড়া আমাদের কোন উপায় নেই।

এছাড়াও জেলেদের অভিযোগ সরকার ঘোষিত কোনো প্রকল্পই জেলেদের কাজে লাগছে না। সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় মৎস্যজীবী, মৎস্য চাষী ও জেলেদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তাদের পূণবার্সন ও ক্ষতিপূরণসহ ৪ দফা দাবি বাস্তবায়নে গত ৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় বিজয়নগরের পুরানা পল্টন লেনস্থ বাংলাদেশে ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতি কার্যালয়ে আলোচনা সভায় যোগদান করেছেন জেলে প্রতিনিধিবৃন্দ। এর পর সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণ করে  সারা উপকূলীয় জেলে প্রতিনিধিগণ। জানা গেছে, গত ১ বছরে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে প্রায় ৩ শতাধিক জেলে মারা গেছে। ৩৫টি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। এর মধ্যে দু’টি ট্রলার ভাঙ্গা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বাকী ৩৩টির কোনো সন্ধান নেই। এসব ট্রলারে প্রায় ৫ শতাধিক জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এসব জেলে জীবিত না মৃত অবস্থায় আছেন এর কোনো তথ্য সরকারি ভাবে কোনো দপ্তরে নেই বলে জেলে প্রতিনিধিরা জানান।

জেলেদের আন্দোলনের ৪ দফা দাবীর গুলো হচ্ছে-১. ডুবে যাওয়া ট্রলারের মৃত্যুবরণকারী মাঝি ও শ্রমিক প্রতি পরিবারকে প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ লাখ টাকা এবং প্রতি ট্রলারের জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ ১৫ লাখ টাকা দিতে হবে। ২. গ্রুপ বীমা বাবদ প্রতি ট্রলালের মাঝি, শ্রমিক ও জেলেদের নামে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে। ৩. প্রতি ট্রলারের সন্ধানের জন্য সীমান্ত রক্ষী নৌবাহিনী, কোষ্টগার্ড এর আওতায় থাকার জন্য প্রতিটি ট্রলারে ওকিটকি দিতে হবে। এছাড়া সরকার প্রতি বোটে জীবনরক্ষাকারী আধুনিক বয়া দিতে হবে এবং দিক নির্ণয় করার জন্য সাগরের কিনারে রাডার বাতি স্থাপন করতে হবে এবং ৪নং দাবি হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত মালামাল বন্টরের নামে লুটপাট বন্ধে ট্রলার শ্রমিক প্রতিনিধি, নৌবাহিনী, কোষ্টগার্ড, নৌ-পুলিশ, মৎস্য বিভাগ ও শ্রম দপ্তরের প্রতিনিধির সমন্বয়ে কমিটি গঠন করতে হবে।

Leave a Comment