News Britant

Tuesday, September 27, 2022

পাশে নেই পঞ্চায়েত, অর্ধভুক্ত আদিবাসী বৃদ্ধের নেই মাথার ছাদও

Listen

( খবর টি শোনার জন্য ক্লিক করুন )

#রায়গঞ্জঃ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার আদিবাসী সমাজের উন্নয়নের জন্য  নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও শুধুমাত্র পঞ্চায়েত সদস্যের ব্যর্থতার জন্য দিনের পর দিন অর্ধভুক্ত হয়ে বেঁচে আছেন বছর ৮০ বছরের আদিবাসী বৃদ্ধ লোধু সরেন। এমন ঘটনায় তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে রায়গঞ্জ ব্লকের ১১ নম্বর বীরঘই গ্রাম পঞ্চায়েতের শাকধুয়া গ্রামে।

গ্রামবাসীদের দাবি, গোয়ালগাঁওয়ের বাসিন্দা লোধু সরেন যখন কর্মক্ষম ছিলেন, তখন এক জমিদার পরিবারে নৈশ প্রহরীর সাথে গরু, ছাগল দেখাশোনা করতেন। কিন্তু বয়স বাড়তেই কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেয় সেই পরিবার। তখন থেকে বিগত প্রায় ৩০ বছর ধরে গৃহহীন অবস্থায় শাকধুয়া হাটের মধ্যে একটি দরজাহীন ভাঙা দোকান ঘরে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা কাটান ওই অসহায় বৃদ্ধ। নিজের বলতে তার কেউই নেই। সম্প্রতি স্থানীয় বিধায়ক সৌমেন রায় একটি হুইল চেয়ার দেওয়ায় প্রাতঃকৃত্য টুকু হয়ত লোকচক্ষুর আড়ালে করতে পারছেন।

নইলে সেটাও করতে হত চালচুলোহীন জায়গায়। লোধু সরেন বলেন, পরিবারের বাকি সদস্যরা মারা গিয়েছেন। গরুর গুঁতোয় পা ভেঙে অথর্ব হয়ে পড়ে আছি। কোথায় আর যাব, তাই এখানেই পড়ে থাকি। কেউ কিছু খেতে দিলে খেতে পাই। শীর্ণদেহের অবশিষ্ট বলতে শক্ত হাড়গুলো মাংসের অভাবে ভুগছে। পেটে খাবার না থাকলে এমনটাই তো হওয়ার কথা, দাবি গ্রামের বাসিন্দাদের।

অসুস্থ বৃদ্ধ লোধু সরেনের এমন অবস্থা দেখে তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারাই যে যেমন পারেন, খেতে দেন ওই আদিবাসী বৃদ্ধকে। কেউ দেন বিস্কুট, কেউ মুড়ি। কপাল সুপ্রসন্ন হলে বৃদ্ধের মুখে ওঠে কারো দয়ায় দুটো অন্ন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, লোধু খুবই কষ্টে আছেন।ফাঁকা মাঠে তীব্র শীত ও গ্রীষ্মে প্রায়ই না খেয়ে থাকেন। নেই তার বসত ঘর, কেউ খেতে দিলে তবে খেতে পায়। এমন ঘটনা শুনে আদিবাসী জমি রক্ষা কমিটির  সমাজকর্মী মোহনলাল চোঁড়ে  বলেন, আপনাদের কাছেই খবরটা শুনলাম।

আজই বিষয়টি নিয়ে আমরা মিটিং করব। যত শীঘ্র সম্ভব সরকারি সুযোগ সুবিধা যাতে পান, সেটা দেখব। এমন অবস্থায় রায়গঞ্জ ব্লকের যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অমিত সাহা বলেন, আপনাদের থেকেই খবরটা শুনলাম। যতদ্রুত সম্ভব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, আদিবাসী বৃদ্ধের এই খবর শুনে পুরো দায়ভার পঞ্চায়েত সদস্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিলেন ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রফিকুল আলম। তিনি বলেন, ওই এলাকার সদস্য যদি না জানায়, তবে আমরা কি করব।

তবে, আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধি তথা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বাসু চোড়ে বলেন, বছর খানেক আগে ১৩০০ টাকা ওই বৃদ্ধকে সহয়তা করা হয়। সাহায্য চাইলে নিশ্চয়ই সহয়তা করা হবে। আদিবাসী সমাজের মানুষের জন্য সরকারি ভাবে নানান প্রকল্প ঘোষিত হলেও সেই প্রকল্প রূপায়ন নির্ভর করে গ্রাম পঞ্চায়েত গুলোর ওপর। সেই পঞ্চায়েতই যদি আদিবাসী সমাজের মানুষের পাশে না দাঁড়ায়, তবে তো সরকারি প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়বে, ব্যর্থ হবে উন্নয়ন, এমনটাই দাবি সমাজকর্মীদের। এখন দেখার, কত দ্রুত নিত্য দুটো গরম ভাত ও একটা ছাদ জোটে এই আদিবাসী বৃদ্ধের, সেদিকেই তাকিয়ে শাকধুয়ার সাধারণ মানুষ।

Leave a Comment