News Britant

Saturday, September 24, 2022

সাপে কাটা রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য হাসপাতালে, তদন্তের আশ্বাস সুপারের।

Listen

( খবর টি শোনার জন্য ক্লিক করুন )

#মালবাজার: সাপে কাটা রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে উত্তেজনাকর ঘটনা ঘটলো। অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসার গাফিলতির।ঘটনাটি ঘটেছে মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। প্রসঙ্গত জানা গেছে মাল শহরের পার্শবর্তী তেসিমিলা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত হায়হায় পাথার এলাকার যুবক কবীর আলম (৩৩) কে শনিবার রাত ৮টা নাগাদ  সাপে কাটলে তৎক্ষণাৎ বাড়ির লোক চিকিৎসার জন্য মাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তৎক্ষণাৎ ভর্তির পরামর্শ দেন। বাড়ির লোকেরা কবীরকে চিকিৎসকের পরামর্শ মতন হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। কিন্তু হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স, ও কর্মীদের তরফে রোগীর প্রতি তেমনভাবে পরিষেবা না দেবার অভিযোগ উঠেছে। রোগীকে স্যালাইন দেবার প্রয়োজনে হাতে সঠিকভাবে চ্যানেল তৈরী করে উঠতে পারেন নি কর্তব্যরত নার্স ও কর্মীরা বলেই রোগীর পরিবারের তরফে দাবী। রোগীর শ্বাসকষ্ট সহ শারীরিক সমস্যা শুরু হলেও চিকিৎসককেও ডাকা হয় নি।

কার্যত বিনা চিকিৎসাতেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলেই শনিবার রাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর পরিবার সহ আত্মীয় পরিজনরা। রবিবার সকালে আবার  হাসপাতাল চত্বরে মৃত রোগীর পরিবার ও এলাকাবাসীরা এসে জমায়েত হতে থাকেন। শুরু হয় বিক্ষোভ প্রদর্শন। এরমধ্যেই ঘটনাস্থলে আসে মাল থানার বিরাট পুলিশবাহিনী। রোগীর পরিবার সহ সকলকে শান্ত করতে আসরে নামেন মাল থানার আইসি সুজিত লামা সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।

এরমধ্যেই পরিবারের সদস্যদের সাথে বৈঠক করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দেন মাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার ডাঃ প্রিয়াঙ্কুর জানা। কিন্তু মৃতের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয় পরিজনেরা কর্তবরত চিকিৎসক সহ নার্সিং কর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে অনড় মনোভাব পোষণ  করেন। ঘটনা প্রসঙ্গে মৃতের ভাই মোস্তাফিজুর আলম বলেন, “কার্যত বিনা চিকিৎসায় দাদার মৃত্যু হোলো।

নার্সিং কর্মীরা স্যালাইন লাগাতে পারে না। শ্বাসকষ্ট শুরু হলেও হাসপাতাল কর্মীদের বারংবার বলা সত্ত্বেও উদাসীনতা দেখালেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে রোগী হাসপাতালের সজ্জায় পরে থাকলেও চিকিৎসক এলেন না। এদের শাস্তি হওয়া উচিৎ। এদের গ্রেপ্তারের দাবী জানাই”। মৃতের আত্মীয় পরিজনেরা বলেন, “নামেই সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। এখানে কোনো পরিষেবা সঠিকভাবে মেলে না। রোগী ও তার আত্মীয় পরিজনের সাথে হাসপাতালের কর্মীদের ব্যবহার খুবই খারাপ”। 

কিছুক্ষন সেই আলোচনা চলবার পরে মৃতের আত্মীয় পরিজন সহ এলাকাবাসীরা ৩১ নং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে চিকিৎসক সহ স্বাস্থ্য কর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।রবিবার হাটের দিনে জাতীয় সরকে যানজট হয়। ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসেন মাল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের  সভাপতি সুশীল কুমার  প্রসাদ সহ তেশিমিলা এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ওয়ারেসুল অম্বিয়া সহ অন্যান্যরা।

কিছুক্ষনের মধ্যেই পুলিশের তরফে মৃতের আত্মীয়দের বুঝিয়ে ৩১ নং জাতীয় সড়কের অবরোধ মুক্ত করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয় এবং রোগীর পরিবারকে লিখিত অভিযোগ জমা করে আইনি প্রক্রিয়ায় ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে কর্তব্যের গাফিলতি হলে শাস্তি প্রদানের আশ্বাস প্রদান করা হয়। প্রসঙ্গত হাসপাতালের সুপার ডাঃ প্রিয়াঙ্কুর জানা বলেন, “মৃতের পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ করলে ঘটনা উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করে কর্তব্যের গাফিলতি হলে আইনি পথেই দোষীদের শাস্তি হবে”। পরে মৃতের আত্মীয় পরিজনেরা সুপার সহ বিভিন্ন মহলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

Leave a Comment