News Britant

Friday, January 27, 2023

ভাসান বিপর্যয়ে যারা বাঁচলেন আর যারা তাদের বাঁচালেন তারাই আজ হিরো

Listen

( খবর টি শোনার জন্য ক্লিক করুন )

#মালবাজারঃ বুধবার সন্ধ্যায় ডুয়ার্সের মালবাজার শহরের প্রতিমা নিরঞ্জন ঘাটের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর কেটে গেছে দুটি দিন। শোকের আবহাওয়া কাটিয়ে আস্তে আস্তে ছন্দে ফিরছে শহর। সেদিনের হরপা বানের স্রোতে ভেসে গিয়েও কোন এক মহাকালের কৃপায় প্রানে বেঁচে ফিরে এসেছেন তাদের অনেকের ঘোর এখনো কাটেনি। অন্যদিকে যারা সেদিন নিজেদের প্রানের মায়া উপেক্ষা করে প্রচন্ডরকম স্রোতের মধ্যে ঝাপ দিয়ে ভেসে যাওয়া মানুষ গুলিকে বাঁচিয়েছিলেন তারাই আজ শহরের হিরো।

সেদিন সন্ধ্যায় মালনদীর প্রবল হরপা বানের স্রোতে ভেসে গিয়েছিলেন ভাস্কর সরকার, শ্রাবণী সরকার ও তাদের দুই মেয়ে। জীবন ও মৃত্যুর মাঝে ভেসে যাচ্ছিলেন। সেই সময় দুই মুসলিম যুবক আইনুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম নদীতে ঝাপ দিয়ে তাদের টেনে তোলে নদীর চরায়। তারপর উল্টো দিকে কলেজের পার দিয়ে তাদের পৌঁছে নিরাপদ জাতীয় সরকে। এই রকম ভাবে প্রবল স্রোতের জলে ভেসে গিয়েছিল উত্তম শীল, প্রতিমা শীল ও দুই মেয়ে। সেই চরম বিপর্যয়ের মাঝে দুই আদিবাসী যুবক তাদের টেনে তুলে পৌঁছে দেয় নিরাপদ জাতীয় সড়কে। সেদিনের পর থেকে একটা ঘোরের মধ্যে আছে সরকার পরিবার।

ভাস্করবাবু ও শ্রাবণী দেবী জানান,সেদিন আমরা গোটা পরিবার বিসর্জন ঘাটে ছিলাম। রাত ৮.৩০ মিনিট নাগাদ দেখি পা’য়ের দিকে পরিস্কার জল বইছে। মুহুর্তের মধ্যে ঘোলা জল এসে হাটু পর্যন্ত উঠে আসে। বিপদ দেখে পারের যাওয়ার চেষ্টা করি কিন্তু, প্রচন্ড ভীড় থাকায় উল্টো দিকে চরায় ওঠার চেষ্টা করি। ততক্ষণে জল বুক পর্যন্ত উঠে এসেছে।তখন স্ত্রী ও মেয়েদের বলি পরস্পর হাত শক্ত ভাবে ধরে থাকতে। কিন্তু, সেই ধরে থাকা সম্ভব হয়নি। তীব্র স্রোতে হাত শিথিল হয়ে ভেসে যায় আমার দুই মেয়ে স্ত্রী। আমিও ভেসে যাই। জীবনের আশা তখন ছেড়ে দিয়েছি।

এমন সময় অন্ধকারের মাঝে দেখি একটা হাত এগিয়ে এসে বলছে “ভয় পাবেন না, আমার হাত ধরুন”। প্রথমে ফস্কে গেলেও দ্বিতীয় বারে ধরি। তারপর সেই যুবক আমাকে টেনে চরায় তোলে। চরায় উঠে পরিবারকে খুজছি। দখি দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে টেনে তুলেছে দুই যুবক। স্ত্রী তখন প্রায় বিবস্ত্র। এক যুবক তার জামা খুলে দেয়। তারপর উল্টো দিক দিয়ে নদীর অন্য স্রোত পার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয় জীবন দাতাদের কৃপা আজীবন স্মরণে থাকবে”।

একই রকম অভিজ্ঞতার উত্তম শীল ও প্রতিমা শীল। তারা জানান, “দুই মেয়ে ও আমরা ভেসে গিয়েছিলাম। দুই আদিবাসী যুবক আমাদের টেনে তুলে বাঁচায়। কেরালায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করে আমিনুল। পুজায় বাড়ি এসেছিলেন। মালনদীর পাশে গাড়ির বডি বানানোর করে আইনুল। তারা জানায়, প্রতি বছর ভাসানের মেলায় আসি। এই নদীর পারেই বড় হয়েছি। সাঁতার জানি। এরকম হরপা বান বহু দেখেছি।

ভাসানের দিন বানের স্রোতে যখন দেখি বহু মানুষ ভেসে যাচ্ছে তখন আর থাকতে পারিনি। ঝাপ দিয়ে সাঁতরে বেশে কয়েকজনকে টেনে তুলেছি। মানুষের জীবন বাঁচতে পেরে ভালো লাগছে। যারা মারা গেলেন তাদের জন্য দুঃখ হচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যায় মালনদীর বিসর্যন বিপর্যয় প্রমাণ করলো জাতি ধর্ম বা শ্রেনী নয়। বিপদের মাঝে “মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।”  

Leave a Comment