News Britant

Friday, December 9, 2022

রক্তাক্ত কার্নিভালের খলনায়ক গরু, মানতে নারাজ গ্রামবাসীরা

Listen

( খবর টি শোনার জন্য ক্লিক করুন )

#হেমতাবাদ: প্রথমবারের দুর্গাপুজো কার্নিভাল রায়গঞ্জে অভিশপ্ত হয়ে উঠেছিলো যে বলদ গরুর দৌরাত্ম্যে, আদতে তারা নিরীহ বলেই দাবি করলেন সেই গরুগুলোর মালিক সহ স্থানীয় গ্রামবাসীরা। রায়গঞ্জের পুজো কার্নিভালে শুরু থেকে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও শেষে গিয়ে তাল হারিয়ে পুরোটাই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় বলদের দাপটে। আনন্দের উৎসবটি পরিণত হয় রক্তাক্ত কার্নিভালে।

বিভিন্ন মহল থেকে ক্লাব কর্তৃপক্ষকে দায়ী করলেও মূলত এই ঘটনাটি যে বলদ গুলি ঘটিয়েছে সেই গ্রাম হেমতাবাদের কাশিমপুরে গিয়ে জানা গেল তারা একদম সুস্থ এবং বিগতদিনে তারা এরকম কিছু করেনি। শহরের পরিবেশে দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা, জোরে শব্দ, প্রচুর লোকসমাগম দেখে ভয় পেয়ে যায় অবলা প্রাণীগুলো। ঘটিয়ে ফেলে মর্মান্তিক অঘটন। সেজন্য তাদেরকে কোনোমতেই দায়ী করতে নারাজ গ্রামবাসী। এমন কি ছয়টি গরু গাড়িসহ যে ভাড়া ঠিক হয়েছিল সেটিও পুরো তারা পাননি বলে জানান। পুরো ঘটনায় গ্রামবাসী রাও দুঃখিত তবে বলদ গুলিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে একদমই নারাজ তারা।

গত শুক্রবার রায়গঞ্জের কার্নিভালে অনুশীলনী ক্লাবের প্রতিমা ভাসানের জন্য হেমতাবাদের কাশেমপুরের ৩ টি বলদের গাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়। গোলাম মুর্তাজার গাড়িতে দুর্গা প্রতিমা ছিল, অন্যান্য দুটিতে ছিল লক্ষ্মী ও গনেশ এবং কার্তিক ও সরস্বর্তী। কার্নিভাল চলাকালীন শব্দ, আলোর তীব্রতা ও লোকসমাগমে চঞ্চল হয়ে ওঠে দুর্গাপ্রতিমা বহনকারী বলদদুটি। প্রথমে শান্ত করা গেলেও কিছু পরেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি উলটে দুর্গাপ্রতিমাকে ফেলে দিয়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটতে থাকে একটি বলদ।

সাধারণ মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। শিংয়ের গুঁতোয় প্রাণ হারাণ রায়গঞ্জের ভারত সেবক সমাজ সংঘের সভাপতি সাধন কর্মকার।বেশ কয়েক জন আহত হন।জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত কার্নিভালে লাগে রক্তের দাগ। রায়গঞ্জ থানার পুলিশ বলদের গাড়ির মালিক গোলাম মুর্তাজাকে আটক করে।খ্যাপা বলদটিকেও উদ্ধার করেন গ্রামবাসীরা।গতকাল গোলাম মুর্তাজাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এখন হেমতাবাদের পূর্ব কাশেমপুরে  গোলাম মুর্তাজার বাড়ির পাশেই বাধা রয়েছে বলদ দুটি। গোলাম মুর্তাজার স্ত্রী মর্জিনা খাতুন বলেন, বলদদুটি এখনো ঠিকঠাক খাবার খাচ্ছে না। ওরাও আতঙ্কে রয়েছে। ভাড়া কত টাকায় ঠিক হয়েছিল জানি না,তবে পুরো ভাড়া পাইনি।ক্লাবের লোকজন ওইদিন রাতে ভাড়া দিতে চেয়েছিল, কিন্তু আমাদের লোকজন নেয়নি। কারন আমার বাড়ির লোককে পুলিশ লক আপে নিয়ে গেছিলো।

আর একটি  বলদ ছুটে পালিয়ে গেছিলো। এর আগে প্রতিমা বিসর্জনে আমাদের গাড়ি যায়নি, তাই এমন অবস্থার মধ্যে কোনো দিন পড়েনি তারা। একই বক্তব্য গ্রামবাসী থেকে শুরু করে বাকি দুই গাড়ির চালকেরও। সেদিনের দুর্ঘটনার জন্য দায়ী অতিরিক্ত আলো, শব্দ, আওয়াজ সহ কিছু মানুষের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। এজন্য অবলা প্রানীগুলিকে দোষারোপ করা অনুচিত বলেই মনে করছেন তারা।

Leave a Comment