News Britant

Friday, January 27, 2023

আগামি ১২ নভেম্বর থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ উইক’

Listen

( খবর টি শোনার জন্য ক্লিক করুন )

#হাবিবুর রহমান, ঢাকা: বাংলাশের ঢাকায় সপ্তাহব্যাপী ‘মেইড ইন বাংলাদেশ উইক’ সম্মেলন শুরু হবে আগামী ১২ নভেম্বর শনিবার। সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার ঢাকার উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ উইক’ উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান এ কথা জানান। তৈরি পোশাক মালিক ও রপ্তানিকারক সমিতি বিজিএমইএ’র উদ্যোগে বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জ (বিএই) এর সার্বিক সহযোগিতায় সপ্তাহব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১২ নভেম্বর থেকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিস) ‘মেইড ইন বাংলাদেশ উইক’ অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন ১৩ নভেম্বর এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার পর্দা নামবে আগামী ১৮ নভেম্বর।

১৫ ও ১৬ নভেম্বর বসুন্ধরার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি হল-১ এ দু’দিনব্যাপী ঢাকা অ্যাপারেল সামিট অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা অ্যাপারেল সামিটের ৩য় সংস্করণটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সব অংশীজনদের একই ছাদের নিচে নিয়ে আসবে, যেখানে তারা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন। ঢাকা অ্যাপারেল সামিটে সরকারি, বেসরকারি খাত, দাতা সংস্থা, ব্র্যান্ড, শ্রমিক সংগঠন সবার সম্মিলিত প্রয়াসে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে ৯টি সেশনের আয়োজন করা হয়েছে। এই সেশনগুলোতে আলোচনার বিষয়বস্তুর উপর প্রবন্ধ, ভার্চুয়াল উপস্থাপন, শিল্পের অগ্রগতি এবং আগামী দিনে করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি এই ইভেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের সামর্থ্য এবং সক্ষমতা উপস্থাপন করতে আমরা সক্ষম হব। আমাদের পোশাক শিল্প টেকসইতা এবং উৎকর্ষের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেইসাথে উন্নত অবকাঠামো এবং একটি ভাল ব্যবসায়িক পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে নিজেকে প্রস্তুত করছে দেশ। বিজিএমইএ-এর মতে, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, শ্রমিকদের সুস্থতা এবং পরিবেশগত টেকসইতা নিশ্চিত করতে পোশাক শিল্পে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এ শিল্প এখন সুযোগ, প্রবৃদ্ধি এবং শ্রেষ্ঠত্বের নতুন নতুন ক্ষেত্র অনুসরণে নিজেকে এগিয়ে নিচ্ছে।

বিজিএমইএ বলেছে, তারা সাপ্লাই চেইনের মূল স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সহযোগিতায় বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের মধ্যে একটি স্থিতিস্থাপক ইকোসিস্টেম তৈরি করতে চায়। পোশাক শিল্পকে একত্রিত করে একটি রোডম্যাপ তৈরি করতে এবং বৃহত্তর স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে একটি কৌশলগত বন্ধন তৈরির চেতনা নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে এই ইভেন্টের। বিজিএমইএ এই ইভেন্টের মাধ্যমে একটি টেকসই, স্থিতিস্থাপক, আধুনিক, ন্যায্য এবং ন্যায়সঙ্গত সাপ্লাই চেইন গঠনের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চায়। থার্ড অ্যাপারেল সামিট ছাড়াও মেগা ইভেন্টে ঢাকা অ্যাপারেল এক্সপো, সাসটেইনেবল ডিজাইন অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড, সাসটেইনেবিলিটি লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড, মেইড ইন বাংলাদেশ ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড, এনআরবি অ্যাওয়ার্ড, ফ্যাশন রানওয়ে শো, কালচারাল শো-এর মতো বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

এছাড়া প্রকাশিত হবে Bangladesh’s Heritage Book, 101 Good Practices in the RMG Industry book এবং Colours of Bangladesh booklet. বিজিএমইএ সভাপতি যোগ করেন, সবভাবেই আমরা বাংলাদেশকে ভিন্ন আলোয় তুলে ধরার চেষ্টা করছি। তাছাড়া, বিশ্ব পোশাক রপ্তানি বাজারে ইতোমধ্যেই চীনের আধিপত্য কমতে শুরু করেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়ায় ৪২.৬১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৫.৪৭ শতাংশ বেশি।

ইউক্রেন-রাশিয়ার চলমান যুদ্ধের মধ্যে চীনের তৈরি পোশাক রপ্তানি যখন কমছে, তখন এখাতে বাংলাদেশের উচ্চ প্রবৃদ্ধির পেছনে দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ান ঘিরে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দ্বন্দ্বও ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে জ্বালানীর দর বাড়ার কারণে উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখা দিলেও আগামী দিনগুলোতেও এসব বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা দেখছে বিজিএমইএ।

Leave a Comment