News Britant

Friday, December 9, 2022

কথা দিয়ে কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে এসে মানুষের পাশে দাড়ালেন

Listen

( খবর টি শোনার জন্য ক্লিক করুন )

#মালবাজার: আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যা বলেন তাই করেন। এমটাই মঙ্গলবার প্রত্যক্ষ করলেন মালবাজার শহরের মানুষ। দেখলেন মমতাময়ী রুপ। গত ৫ অক্টোবর মালনদীর বিসর্যন ঘাটে হটাৎ  প্রানঘাতী হরপা বানে ভেসে গিয়ে ৮ জনের মৃত্যু হয় ও ১৩ জন জখম হয়। সেই মর্মান্তিক ঘটনার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে সমবেদনা জানিয়ে মৃতদের পরিবারের জন্য ২ লক্ষ টাকা ও আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা ঘোষণা করেন।

সত্বর তারা সেই টাকা পেয়েও গেছেন। বেশ কয়েকটি পরিবার সেই মর্মান্তিক ঘটনায় অসহায় হয়ে পড়ে। এরপরও অনেকে জানিয়ে ছিল নেত্রী শহরে এলে ভালো হবে। নেত্রী সেই দাবীও পূরণ করতে সোমবার পরন্ত বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী নিজে নিহতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমবেদনা জানান। কোন সমস্যা আছে কি না? খোঁজ নেন, চাকুরির দরকার আছে কি না?  তাও জেনে নেন। এরপর মঙ্গলবার মাল আদর্শ বিদ্যা ভবনে বেলা ১টা এসে পৌছান মুখ্যমন্ত্রী।

সংগে ছিলেন মন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস, মন্ত্রী বুলু চিকবরাইক সহ অন্যান্য ব্যাক্তিবর্গ। সভা কক্ষে তার আগেই পৌঁছে যান মন্ত্রী উদয়ন গুহ, মাল পৌরসভার চেয়ারম্যান স্বপন সাহা, এসজেডিএর চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী, এনবিএসটিসির চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায়, জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ সহ অন্যান্যরা। সভা কক্ষে আগে থেকেই  প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকা হয়ে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের।

এর সাথে ডেকে নেন সেদিন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে যারা  উদ্ধার কাজ করে ছিল। সভা শুরু হতেই জেলা শাসক মৌমিতা গোদারা বসু মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১ মিনিট নিরবতা পালনের প্রস্তাব করেন। মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্যরা উঠে দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করেন। নিরবতা পালনের পর মুখ্যমন্ত্রী নিহতদের স্মৃতি ফলকে পুস্পার্ঘ দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপরই এক এক করে নেত্রী নিজেই ডেকে নেন সেদিনের উদ্ধারকারী দাড়া সিং, দীপক ভদ্রা, সৌমেন চৌধুরী, বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, মনোজ মুন্ডা,আমিরা মাহাতো, মহঃ মানিক নামের ৭ জনকে।

খোজ নেন তারা কে কি করে তাদের হাতে ১ লক্ষ টাকার চেক ও শংসাপত্র তুলে দেন।এরপরও তাদের কাছে জানতে চান আর কিছু চাহিদা আছে কি না।গাড়ি চালক বিশ্বজিৎ বিশ্বাসকে জিজ্ঞেস করেন চাকুরী পেলে করবে কি না।মুখ্যমন্ত্রীর শংসাপত্র ও আশ্বাস পেয়ে মনোজ মুন্ডা বলেন, আমি সত্যি কৃতঞ্জ। আমাকে বলেছে এই সার্টিফিকেট দেখালে চাকরি হবে।চাকুরী হলে ভালো হবে। এরপর ডেকে নেন মৃতদের পরিবারের সদস্য দের। পরিবারের ১ জন করে কনস্টেবল অথবা গ্রুপ সি চাকুরির অফার লেটার দেন।

চাকুরির অফার পেয়ে প্রতিটি পরিবারের সদস্যরা আপ্লূত। মঙ্গলবার দুপুরের এই ঘটনা দেখে অত্যন্ত আবেগ প্রবন হয়ে পড়েন অনেকে। শহরবাসী দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী যা বলেন তাই করে দেখান। অর্থ ঘোষণা পর চেক পৌঁছে গেছে বাড়িতে। এবার চাকুরির চাহিদা থাকায় তাও পূরন করলেন। আজ সবার সাথে অত্যন্ত ভালো ভাবে কথা বলে এবং সুস্থ থাকার কথা জানিয়ে মালবাজার শহর থেকে শিলিগুড়ির পথে হেলিকপ্টারে উড়ে যান। 

Leave a Comment