News Britant

Thursday, December 8, 2022

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কোন্নয়নে সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

Listen

( খবর টি শোনার জন্য ক্লিক করুন )

#হাবিবুর রহমান, ঢাকা: ‘দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক কীভাবে সবচেয়ে বেশি সুসংহত করা যায়, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে গণমাধ্যম। পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও সত্যতার মাপে সমাজ বিনির্মাণে গণমাধ্যমের ভূমিকাও অপরিসীম।স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতীয় প্রেসক্লাবের ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক ও গণমাধ্যমের ভূমিকা: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ কথা বলেছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকায় সংসদ ভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে স্পিকার আরও বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে সর্বোচ্চ চূড়ায় অবস্থান করছে।

তারপরও কিছু সমস্যা রয়েছে, যেগুলো বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে বলে বিশ্বাস করি।এ অনুষ্ঠানে উভয় দেশের সিনিয়র সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।শিরিন শারমিন চৌধুরী বলেন, উভয় দেশের সম্পর্ক সমস্যা, সম্ভাবনা, অর্থনীতি, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ওপর নির্ভরশীল। এগুলোতে আমরা উত্তোরত্তর উন্নতির দিকে যাচ্ছি। আশা করি, সামনের দিনে এটি আরো বৃদ্ধি পাবে ও উভয় দেশের অভিন্ন সমস্যাগুলোর সমাধান হবে। তবে এ সম্ভাবনার ক্ষেত্রে উভয় দেশের সাংবাদিকদের এগিয়ে আসতে হবে। এখানে গনমাধ্যমের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উভয় দেশের সম্পর্ক জোরদারেও গনমাধ্যমের ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। আশা করি, গণমাধ্যম সেই কাজটি করে যাবেন।

ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের অনেক যৌথ সমস্যা আছে। কিন্তু আমরা যেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা ভুলে না যাই। আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক হতে হবে জনগণের সঙ্গে। এখানে মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমাদের উভয় দেশের গভীর সম্পর্কে যেতে হবে। আমাদের সমস্যাগুলো আন্তরিকভাবে সমাধান করতে হবে। যাতে উভয় দেশ লাভবান হই। তিনি বলেন, ‘আমি এর আগে বলেছিলাম ভারতের দুটি প্রতিবেশী দেশ চীন ও পাকিস্তান। বাংলাদেশ তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। শেখ হাসিনার আমলে এটি পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু ফলপ্রসূ পরিবর্তন হয়নি। ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা খুব আন্তরিক জানিয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের কমিটমেন্ট রয়েছে।

ভারতের স্থিতিশীলতার উপর নির্ভর করে আঞ্চলিক শান্তি। এই মুহূর্তে আমাদের বড় সমস্যা তিস্তা, এই সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এর সুরাহা কবে হবে তা আমরা জানি না।গঙ্গা নদীর জল বণ্টন চুক্তিকে মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচক হিসেবে পরিচিত মাহফুজ আনাম বলেন, কিন্তু পরবর্তীকালে সেটি তেমন কার্যকর হয়নি। ৫০টি নদীর জলের সুষম বণ্টন জরুরি।ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেক উন্নত হয়েছে, কিংবা কিছু সমস্যার সমাধান হয়েছে। তবে সেটা যথেস্ট নয়। এক্ষেত্রে উভয় দেশের সাংবাদিকদের এগিয়ে আসতে হবে। এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলে উভয় দেশের জনগণের সঙ্গে একটি গভীর সম্পর্ক তৈরি হবে।জনগণের সম্পর্কের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে। পলিটিক্সের দিক থেকে নয়। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ভারতের বাণিজ্য ৯ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ভারতে বাণিজ্য করে ২ বিলিয়ন ডলার। বাণিজ্য ঘাটতি বিশাল। বাংলাদেশ ভারতের ৯ বিলিয়ন ডলারের বাজার।

কিন্তু আমরা তাদের কাছে কতটুকু গুরুত্ব পাচ্ছি?’মাহফুজ আনাম আরও বলেব, বিশ্ব যখন বাংলাদেশকে মডেল বলছে তখন ভারতীয় মিডিয়াতে তার প্রতিফলন দেখছি না। কলকাতার সংবাদ প্রতিদিনের আগরতলা সংবাদদাতা ও আগরতলা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রণব সরকার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বিশেষ ত্রিপুরা সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। আমরা দুই দেশের নাগরিক হলেও আমদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি অভিন্ন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে আমরা সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। ইন্ডিয়ান জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গীতার্থ পাঠক বলেন, ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশের মধ্যে কিছু সাধারণ ঐতিহ্য রয়েছে। তিন বিঘা করিডর, ফারাক্কা, তিস্তা নিয়ে অধিকারের বিষয় আছে।

গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে মূল বিষয়গুলো কমপ্রোমাইজ করা উচিত নয়।গীতার্থ পাঠক বলেন, আমাদের দুই দেশের মানুষের অনেক কমন সংস্কৃতি আছে। সেটাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য উভয় দেশের সাংবাদিকদের ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। গণমাধ্যম উদ্যোগ নিয়ে অনেক সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে পারে। পথ দেখাতে পারে উভয় দেশের সরকারকে। ধর্মান্ধতায় আমাদের সমাজ ভেঙে যাচ্ছে। এটা দুই দেশেই হচ্ছে। এগুলোতে আমরা উভয় দেশের সাংবাদিকরা কাজ করতে পারি।তিনি বলেন, উভয় দেশের সাংবাদিকদের যেন ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা যেন না হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।

যেন আমরা যেন উভয়ে অবাধে যাতায়াত করতে পারি।ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, ভারত আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় অনেক সহযোগিতা করেছে। অনেক সাংবাদিক এই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। গৌরব উজ্জ্বল এই যুদ্ধে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। এই জন্য ভারতের কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতা আজীবন থাকবে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্ব সেমিনারে ভারতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি গৌতম লাহিড়ী ও সাধারণ সম্পাদকসহ বাংলাদেশের সিনিয়র সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারের জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রবীণ সাংবাদিক সোহরাব হাসান,সুকুমার সরকার, মোজাম্মেল হক বাবু, ক্লাবের নির্বাহী সদস্য ভানুরঞ্জন চক্রবর্তী, ইসতিয়াক রেজা, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান প্রমুখ।

Leave a Comment