News Britant

Friday, December 9, 2022

বামাক্ষ্যাপার উত্তরপুরুষদের হাতে পূজিত হন বন্দর আদি কালিবাড়ির করুনাময়ী মা

Listen

( খবর টি শোনার জন্য ক্লিক করুন )

#দেবলীনা ব্যানার্জী, রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জের বন্দর আদি কালিবাড়ির করুণাময়ী মায়ের পুজোর ঐতিহ্য ও মাহাত্ম্য রায়গঞ্জ তথা উত্তর দিনাজপুর জেলার মানুষদের মুখে মুখে ফেরে। জনশ্রুতি অনুযায়ী,  প্রায় সাড়ে পাঁচশো বছর আগে (ইংরেজি ১৪৭০ সালে) পাঞ্জাব প্রদেশের কোনো এক সাধু এখানে পঞ্চমুন্ডি বেদি স্থাপন করে পুজোর পত্তন করেন। অনেকে মনে করেন, সন্ন্যাসী বিদ্রোহের অন্যতম নেতা রঘুনন্দন গিরি গোঁসাই ছিলেন সেই পাঞ্জাবি সাধু।

তখন থেকে এই বেদীতেই পুজো হত। তারপর ইংরেজি ১৮০৯ সালে বারাণসী থেকে কষ্টিপাথরের মূর্তি এনে এখানে স্থাপন করা হয়। সেই মূর্তিতেই দুশো বছরের বেশি সময় ধরে এখানে দীপান্বিতা কালিপুজো হয়ে আসছে। সাধক বামাক্ষ্যাপার নির্দেশে অবিভক্ত বাংলার দিনাজপুরের মহারাজা জগদীশ নাথ রায়চৌধুরি ও তারকনাথ রায়চৌধুরি এই মন্দিরে মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন। পাঁচ পুরুষ ধরে বামাক্ষ্যাপার উত্তরপুরুষরাই এই মন্দিরে পূজারি ও সেবাইত।

আগে মন্দিরের পাশ দিয়েই বয়ে যেত কুলিক নদী, তার পাশেই বন্দর শ্মশান। সেখানে শেয়াল ডাকলে রাতে পুজো শুরু হত। পুজো চলে সকাল অবধি। পুজোর দিন দেবী মা কালীকে শোল মাছ ও বোয়াল মাছ দিয়ে ভোগ দেওয়া হয় এবং রীতি মেনেই পুজোর দিন পশু বলি হয় বলে জানান মন্দিরের পুজারি স্বর্গীয় মদনমোহন চট্টোপাধ্যায়ের পুত্র মৃত্যুঞ্জয় চ্যাটার্জি। তিনি জানান, এখানে তান্ত্রিক মতে মায়ের পুজো হয়। তাই বিগত দিনেও যেমন পশুবলি হত, আগামীতেও হবে।

আগে শেয়াল ডাকলে পুজো শুরু হলেও এখন জনবসতি বেড়ে যাওয়ায় শেয়ালের ডাক শোনা যায় না। তাই সময় দেখে রাত সাড়ে দশটায় পুজোয় বসা হয়। পুজোর দিন শুধু বাংলার লোক নয়, বাইরের রাজ্য এমনকি বিদেশ থেকেও লোক আসেন এই পুজোতে অংশগ্রহণ করতে। বিগত দুবছর করোনার কারনে ভক্তসমাগম কম হলেও এবছর ভক্তের ঢল নামবে মন্দির প্রাঙ্গণে বলে মনে করছেন মৃত্যুঞ্জয়বাবু। মৃত্যুঞ্জয় বাবু আরও বলেন, আমরা সাধক বামাক্ষ্যাপার বংশধর। তাঁরই নির্দেশে ও আশীর্বাদে পাঁচপুরুষ ধরে আমরা এই মায়ের সেবার সঙ্গে যুক্ত।

আমার ঠাকুরদার বাবা স্বর্গীয় জানকীনাথ চট্টোপাধ্যায় তারাপীঠ থেকে এসে এখানে মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই থেকে বংশপরম্পরায় আমরা এখানে পুজো করে আসছি।  এই পুজো নিয়ে এলাকার ভক্তরাও বিশেষ উৎসাহিত থাকেন। অংশ গ্রহণ করেন পুজোয়। ভক্তদের কথামত এই মা কালী ভীষণ জাগ্রত এবং মানুষের মনস্কামনা পূরণ করেন এই দেবী কালী মা। বস্তুত এই কালিপুজোকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজে মেতে ওঠেন বন্দর এলাকার মানুষ সহ সকল রায়গঞ্জবাসী।

Leave a Comment