News Britant

Friday, December 9, 2022

মিলছে না যোগ্য কাজ, উপার্জন কমে হতাশায় রায়গঞ্জ মুক্ত সংশোধনাগারের বন্দীরা

Listen

( খবর টি শোনার জন্য ক্লিক করুন )

#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ সরকারি ভাবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত যে সমস্ত বন্দীরা জেলা আটক রয়েছেন, তাদের মধ্যে  কিছু বন্দীকে সরকারি নিয়ম মেনে, স্বাভাবিক মানুষের মধ্যে মিশে সংশোধন হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। মূলত সেকারণেই কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশাপাশি শুরু হয়েছিল মুক্ত সংশোধনাগার তৈরির পরিকল্পনা। রায়গঞ্জ শহরের মধ্যেও ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে রয়েছে একটি মুক্ত সংশোধনাগার।

জানা গেছে, এই মূহুর্তে সেখানে মুক্ত অবস্থায় বন্দী হিসেবে রয়েছেন ২৩ জন বন্দী। যারা প্রতিদিন নিয়ম মেনে সকালের হাজিরা দিয়ে চলে যান শহরের সাধারণ মানুষের ভিড়ে। দিনশেষে নিজের পেটের খরচ জোগাড় করে, আবারও ফিরে আসেন সরকারি ঘেরাটোপে। এদের কেউ টোটো চালিয়ে উপার্জন করছে, তো কেউ রাজমিস্ত্রীর জোগানদার।

কেউ জেরক্স মেশিন কিনে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দোকান খুলেছেন তো কেউ, কাঠের মিস্তিরি হিসেবে নাম কুড়িয়েছেন। দিব্যি ভালই চলছি এই বন্দীদের কাজকর্ম। কিন্তু বাধ সাধল করোনা মহামারী। দীর্ঘ ২ বছরের বাধানিষেধ শেষে, বাজারে যিনি সবজি বিক্রি করতেন, তাকে আর দোকান খুলতে দিতে চায় না বাজার কমিটি, যে রাজমিস্ত্রির অধীনে কাজ করতেন বন্দীরা, সেই রাজমিস্ত্রির নিজের হাতেই কাজ না থাকায় অর্থের অভাবে ভুগছেন বন্দীরা।

যিনি টেলারিংয়ের কাজ করে অর্থ উপার্জন করতেন, তার হাতও শূন্য। যদিও রায়গঞ্জ কারাগারের আধিকারিকেরা মুক্ত সংশোধনাগারের বয়স্ক, অসুস্থ বন্দীদের জন্য নিয়মিত প্রয়োজনীয় খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন। তবুও তারা মানসিক কষ্টে ভুগছেন। যতবারই তাদের জিজ্ঞেস করা হয়, তারা হাসি মুখে বলেন ভালো থাকার কথা। কিন্তু মহামান্য আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অনুতপ্ত জীবনের সায়াহ্নে এসে, তারা চান না কোনো ঝামেলায় জড়াতে।

তবু কোথাও কোনো ক্ষোভ বা হতাশা হলে বন্দীরাই যে জেল প্রশাসনকে সেকথা জানায়, তা স্বীকার করে নিলেন জেলের আধিকারিকেরা। আধিকারিকেরা জানান, যেহেতু ওরা সাজা প্রাপ্ত বন্দী, তাই সাধারণ মানুষ খুব সহজে ওদের মেনে নিতে চান না। তাই কাজে রাখতে চায় না অনেকেই। তাই ওদেরকে নিয়ে কোথাও কোনো ঝামেলা হলে, আমরা থানার সহয়তা নিয়ে সেখানে পৌঁছে সাধারণ মানুষকো বোঝাই, যাতে ওরা কাজ পায়, ফিরে পেতে পারে সাধারণ জীবন।

Leave a Comment