News Britant

Thursday, December 8, 2022

ইতিহাসের সাক্ষী, ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশে মেট্রোরেল উদ্বোধন

Listen

( খবর টি শোনার জন্য ক্লিক করুন )

#হাবিবুর রহমান, ঢাকা: অবশেষে বাংলাদেশও মেট্রোলেলের খাতা খুলতে চলেছে। মোটামুটি সব কিছু গুছিয়ে ঠিক হয়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ জয়ের দিনটি অরথাৎ ১৬ ডিসেম্বর থেকে ঢাকায় মেট্রোরেল চলবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মেট্রো রেল উদ্বোধন করবেন।দীরঘদিন ধরে ঢাকার বাসিন্দারা যানজটের শিকার।এক কিলোমিটার পথ যেতে এক ঘণ্টা সময় ব্যয়ের সাক্ষী অনেকেই। সড়কপথে এই প্রবল যানজট কমাতে মেট্রো পরিষেবা ব্যবস্থা চালু হতে চলেছে রাধানী ঢাকায়।

তবে মেট্রোর ভাড়া যা নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে আমজনতার মাথায় হাত। সর্বনিম্ন ২০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে। ঢাকার উত্তরা থেকে মতিঝিল স্টেশন পর্যন্ত ভ্রমণের জন্য খরচ হবে ১০০ টাকা। প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ টাকা। মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ”যেসব যাত্রী সাপ্তাহিক, মাসিক, পারিবারিক কার্ড ব্যবহার করবেন, তাঁদের বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে। তবে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিনামূল্যে মেট্রোরেলে ভ্রমণ করতে পারবেন। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল অংশে স্টেশন রয়েছে নয়টি। আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত আগামী বছরের শেষে চালুর পরিকল্পনা আছে।

এই অংশে স্টেশন থাকবে সাতটি। মেট্রোরেল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড। কলকাতা-দিল্লির মতো কার্ড কিনে মেশিনে পাঞ্চ করে তবেই যাত্রীরা আরোহন ও বেরতে পারবেন।থাকবে মাসিক কার্ডও।ঢাকার মেট্রোরেলে মরিয়ম আফিজা ও আসমা আক্তার চালকের আসনে বসার জন্য তৈরি।

এবার মেট্রোলের সঙ্গে আরেকটি পালক জুড়তে এমআরটি-১ এর আওতায় রাজধানীর এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর রুটে পাতাল মেট্রোরেল চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত মোট ২৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এলাইনমেন্ট ঠিক করা হয়েছে। এ রুট নির্মাণে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার পিতলগঞ্জ মৌজায় ৮৮ দশমিক ৭১ একর এলাকার ভূমি অধিগ্রহণ চলছে। মেট্রো রেল লাইন-১ নামে পরিচিত দেশের প্রথম পাতাল রেলের নির্মাণকাজ শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ডিসেম্বরে। প্রথম প্যাকেজের নির্মাণকাজের জন্য জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করছে ঢাকা মাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

পুরো প্রকল্পের নির্মাণকাজ ১২টি প্যাকেজে করা হবে। প্রথম প্যাকেজে কাজ করবে জাপানের টোকিউ কনস্ট্রাকশন কম্পানি লিমিটেড এবং বাংলাদেশের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। পাতাল মেট্রো রেল নির্মাণে ব্যয় হবে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪০ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এবং বাকিটা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। ২০১৯ সালে পাতাল মেট্রো রেলের প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয়। ২০২৬ সাল নাগাদ কাজ শেষ করার সময় নির্ধারণ করা চারটি মেট্রো স্টেশনের কাছে তৈরি হচ্ছে স্টেশন প্লাজা, পার্কিং লট। যাত্রীরা চাইলে নিজের গাড়ি একেবারে স্টেশনের সিঁড়ি বা লিফটের কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারবেন।

তারপর সেখানে গাড়ি রেখে উঠতে পারবেন মেট্রোয়। এছাড়া বাস, ট্যাক্সি, অটোরিকশা–এসব গণপরিবহণে আসা যাত্রীরাও দূরে নয়, একেবারেই স্টেশনের কাছে এসে নামতে পারবেন। এই গোটা ব্যবস্থাকে বলা হচ্ছে ‘স্টেশন প্লাজা’। এসব জায়গায় হালকা টিফিন করা অর্থাৎ স্ন্যাকস খাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানায়, উত্তরা (উত্তর), আগারগাঁও, ফার্মগেট, কমলাপুর–এই চারটি স্টেশনে প্লাজা নির্মাণ করা হবে। প্রাইভেট কার দীর্ঘ সময়ের জন্য পার্কিং করতে পারবেন। এর জন্য অবশ্য তাঁদের নির্ধারিত হারে টাকা দিতে হবে। এই দুটি স্টেশনে আন্ডারগ্রাউন্ড ও মাটির ওপরে বহুতল পার্কিং নির্মাণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।একই ব্যবস্থা থাকবে কমলাপুর স্টেশনে। এই স্টেশনটি হবে বর্তমান কমলাপুর রেলস্টেশনের কাছেই। উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত পাতালপথে মোট ১৭টি স্টেশন তৈরি হবে। এই প্রকল্প বাবদ প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে ডিএমটিসিএল। ব্যয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, তাতে জাইকার দেওয়ার কথা ১৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। সরকার খরচ করবে ১৩ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা। শুরুতে জাইকার দেওয়ার কথা ছিল ১৬ হাজার কোটি টাকা।

Leave a Comment