News Britant

Friday, December 9, 2022

দুইবার দেখা দিয়ে উধাও ভালুক, চা বাগান জুড়ে আতংকের পরিবেশ

Listen

( খবর টি শোনার জন্য ক্লিক করুন )

#মালবাজারঃ দুইবার দেখা দিয়ে উধাও হয়ে গেল ভালুক। রেখে গেল একাধিক চা বাগান জুড়ে আতংকের পরিবেশ। শীত পড়তেই ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিতে শুরু করেছে হিমালয়ান ব্লাক বিয়ার বা কালো ভালুক। কোথাও বন দপ্তরের তৎপরতায় উদ্ধার হচ্ছে আবার কোথাও দেখা দিয়ে উধাও হয়ে যাচ্ছে। এতেই আতংকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। সন্ধ্যা হতেই চা বাগানের শ্রমিক মহল্লায় উদ্বেগের ছাঁয়া দেখা যাচ্ছে। 

ডুয়ার্সের বনে জঙ্গলে ও চাবাগান এলাকায় গত শতকের সাতের দশকে ভালুক এদিক ওদিক ভালুক দেখা যেত। তারপর আস্তে আস্তে ভালুক দেখা দূর্লভ হতে থাকে। সর্বশেষ গত নয়ের দশকে জলদাপাড়ায় ভালুকের দেখা গিয়েছিল। তারপর টানা সোয়া দুই দশক পাহাড়ের অনেক উচুতে ভালুক দেখা গেলেও ডুয়ার্সের সমতল এলাকায় ভালুক অমিল ছিল। আচমকাই গত বছর ২৪ নভেম্বর মেটেলি চা বাগানে ভালুকের দেখা মেলে। ভালুকের আক্রমণে এক স্কুল ছাত্র মারা যায়।

পরে ক্ষিপ্ত চা শ্রমিকরা ভালুকটিকে পিটিয়ে মারে। সেই ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। তার কিছুদিন পরে নাগরাকাটায় ও মালবাজার শহরে উদ্ধার হয় ভালুক। বিভিন্ন জায়গায় ভালুকের দেখা মেলায় আতংকের পরিবেশ তৈরি হয়। গরম পড়তেই আবার উধাও হয়ে যায় ভালুক। আতংকের পরিবেশ স্থিমিত হয়ে আসে। চলতি বছর আবার ভালুকের আগমন ঘটতে শুরু করে। সপ্তাহ দেড় আগে কালচিনি ব্লকে দেখা যায় ভালুক। এরপর গত সপ্তাহে মেটেলি ব্লকের কিলকোট চাবাগানে দেখা মেলে ভালুকের।

পরে সেটা উধাও হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার আবার মালবাজার শহর সংলগ্ন টুনবাড়ি চাবাগানে দেখা মেলে ভালুকের। গোটা দিন বনকর্মীরা সেটাকে কব্জায় আনার চেষ্টা চালিয়ে যায়। দুই বার দেখা দিয়ে উধাও হয়ে যায় সেই ভালুক। অনেক রাত পর্যন্ত বনকর্মীরা তার খোজে চেষ্টা চালিয়েও দেখা পায় নি। এতেই আতংক ছড়িয়েছে টুনবাড়ি, মালনদী ও ডালিমকোট চাবাগানে। আতংকের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে মালবাজার শহরে। টুনবাড়ি চাবাগানের সিনিয়র এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার শ্যামল ঘোষ বলেন, ভালুক নিয়ে টেনশন চলছে। শ্রমিকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে”। 

পরিবেশ প্রেমী মানবেন্দ্র দে সরকার বলেন, যত ক্ষন ধরা না পড়ছে ততক্ষণ পর্যন্ত আতংকের একটা বিষয় থেকেই যায়। রাতের আঁধারে শহরে চলে আসতে পারে। গতবছর শহরের জনবহুল এলাকার এক বাড়ি থেকে ভালুক উদ্ধার হয়েছিল। মাল বন্যপ্রান স্কোয়ার্ডের রেঞ্জার দিপেন সুব্বা জানান, আমাদের কর্মীরা সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে চলছে। দেখা মিললেই ধরার চেষ্টা করা হবে। আমরা চাবাগানের শ্রমিক মহল্লায় পাহারাদারী চালাচ্ছি। 

Leave a Comment