News Britant

Saturday, February 4, 2023

নেই কোনো শিক্ষাকর্মী, তালা খোলা থেকে ক্লাসের ঘন্টা, এই স্কুলে সবটাই শিক্ষকদের কাঁধে

Listen

( খবর টি শোনার জন্য ক্লিক করুন )

 

#ইটাহারঃ স্কুলের পড়ুয়াদের সংখ্যা প্রায় ৭০০। এর মধ্যে ছাত্রীদের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি। দূরদূরান্ত থেকে বহু পড়ুয়া এই স্কুলে ছুটে আসে সঠিক শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে। কিন্তু স্কুলের অনুমোদিত ২৫ জন শিক্ষকের মধ্যে ৮ জন শিক্ষকের পদ খালি। ক্লাস করতে হিমশিম অবস্থা বর্তমান শিক্ষক শিক্ষিকাদের। এর পাশাপাশি, স্কুলে করণিক সহ একজনও শিক্ষাকর্মী না থাকায়, স্কুলের দরজার তালা খোলা থেকে ক্লাসের ঘন্টা বাজানো, সবটাই করতে হয় স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের।

স্কুলটি হল উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার ব্লকের ভাটিনগ্রাম এম এন আই হাই মাদ্রাসা। এদিন স্কুলে গিয়ে দেখা গেল, পড়ুয়াদের বাৎসরিক পরীক্ষা চলছে। তাই সকাল সকাল স্কুলে এসে পরীক্ষার জন্য খাতা তৈরি থেকে শুরু করে পরীক্ষা সবটাই ভাগ করে করছেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। পরীক্ষা শুরুর ঘন্টা বাজাচ্ছিলেন স্কুলের এ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের দায়িত্ব প্রাপ্ত শিক্ষক নাজিমুল হোসেন৷ তিনি এদিনের পরীক্ষা শুরু করে দিয়ে বলেন, আমাদের স্কুলে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি তে কোনো শিক্ষাকর্মী নেই। এ্যাকাডেমিকের সদস্য হওয়ায় একদিকে যেমন পরীক্ষা পরিচালনা করতে হয়, তেমনি স্কুলের দরজার তালা খোলা থেকে ক্লাসের ঘন্টা বাজানো সবটাই করতে হয়।

তবে সবটাই আমরা শিক্ষক শিক্ষিকারা ভাগ করে করি। কেউ করণিকের কাজ সামলাচ্ছেন, কেউ এ্যাকাডেমিকের কাজ করছেন, তো কেউ দরজা খোলা, বেল বাজানো করেন। এদিকে, নিজের সরকারি কাজের ব্যস্ততার মাঝেও সব বিষয়ে খোঁজ রাখছেন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা দেবশ্রী কর্মকার। তিনি বলেন, আমাদের স্কুলে বিগত দুই বছর ধরে একজনও শিক্ষাকর্মী নেই। করনিকের সব কাজ আমাকেই করতে হয়। অনলাইনের কাজ করেন আইসিটি শিক্ষক আল ইমরান। বাকি কাজ গুলো শেষ করতে কোনো কোনোদিন রাত হয়ে যায়। ফিরতে পারি না নিজের বাড়িতে।

করণিক না থাকায়, দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের পাশাপাশি একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে পাঠরত পড়ুয়াদের সব কাজ শেষ করতে আমরা নাজেহাল। সব মিলিয়ে বেশ চাপে আছি। উচ্চতর সরকারি আধিকারিকদের এই শিক্ষাকর্মী না থাকার বিষয়টি জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। জেলা মাইনোরিটি অফিসার লোদেন লেপচাকে স্কুলের এমন সমস্যার কথা জানালে তিনি বলেন, এই বিষয়টি জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক দেখেন। উনিই বলতে পারবেন। এরপর একাধিক বার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু উনি ফোন ধরেননি।

যদিও ইটাহার বিধানসভার বিধায়ক মোশারফ হোসেন জানান, ওই মাদ্রাসাটিতে শিক্ষাকর্মীর পদ খালি রয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে জানানো হয়েছে। পরীক্ষা শেষে নিয়োগ চালু হলেই এই সমস্যা সমাধানের পথ খুলবে। এদিকে সদ্যই শেষ হয়েছে ওই মাদ্রাসার পরিচালন সমিতির নির্বাচন। ভোটে সবক’টি পদেই জয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা। তারাও চাইছেন স্কুলের খালি থাকা ৮জন সহ শিক্ষক, ১ জন করণিক ও ৩ জন শিক্ষাকর্মীর পদ গুলোতে নিয়োগ হোক। তবেই পড়ুয়াদের পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।

Leave a Comment