News Britant

Friday, January 27, 2023

বাংলাদেশে জঙ্গি’র সামরিক প্রধান রণবীর ও বোমা বিশেষজ্ঞ বাশার গ্রেফতার

Listen

( খবর টি শোনার জন্য ক্লিক করুন )


#হাবিবুর রহমান, ঢাকা: বাংলাদেশে কক্সবাজারের উখিয়ায় সোমবার ভোরে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে জামায়তুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার সামরিক শাখার প্রধান রণবী ও বোমা বিশেষজ্ঞ আবুল বাশারকে গ্রেফতার করেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জঙ্গি আস্তানা গড়তে সেখানে আত্মগোপনে ছিলেন রণবীর ও তার সহযোগী আবুল বাশার। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, দেশিয় তৈরি দুটি অস্ত্র, ১১টি কার্তুজ ও আড়াই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জঙ্গিদের সঙ্গে র‌্যাবের গোলাগুলি হয়। তবে গোলাগুলিতে কেউ হতাহত হয়নি।

সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে  এ তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান কমান্ডার খন্দকার আল মইন। জানা গেছে, র‌্যাব কর্তৃক প্রকাশিত পাহাড়ে প্রশিক্ষণরত ৫৫ জনের তালিকায় নাম ছিল গ্রেফতারকৃত আবুল বাশারের। গত বছরের ৩ অক্টোবর র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে আবুল বাশার ৫৫ জনের দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পাহাড় থেকে পালিয়ে সিলেট চলে যান এবং সামরিক শাখার প্রধান রণবীরের কাছে আশ্রয় নেন। পরে তারা দুজন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আত্মগোপন করেন।

খন্দকার আল মইন আরও বলেন, গত বছরের আগস্টে আট তরুণ কথিত হিজরতের নামে ঘর ছাড়ে। তাদের খুঁজতে গিয়ে র‌্যাব ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়া’ নামে নতুন একটি জঙ্গি সংগঠনের তথ্য পায়। এরপর সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে গতকাল পর্যন্ত তিন বিচ্ছিন্নতাবাদীসহ নেতৃস্থানীয় পর্যায়ের ৩৮ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সরবরাহ, রিক্রুটমেন্ট নিয়ে গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা গত বছরের ২০ অক্টোবর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা এবং র‌্যাব-৭ এর বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সমতল থেকে পাহাড়ে আত্মগোপনে থাকা ৭ জঙ্গি এবং তাদের সহায়তাকারী ৩ জন কেএনএফ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

এরপর দিন ২১ অক্টোবর গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে বিলাইছড়ি থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেফতার সাত আসামির মধ্যে নব্য জঙ্গি সংগঠনের সামরিক শাখার উপ-প্রধান সৈয়দ মারুফ আহমেদ মানিক ছিলেন। গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিলাইছড়ি থানায় রুজুকৃত মামলার তদন্তকারী অফিসার বিজ্ঞ আদালতে ৫ আসামির রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত সংগঠনটির সামরিক শাখার উপ-প্রধান সৈয়দ মারুফ আহমেদ ওরফে মানিকসহ ৫ আসামির ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সৈয়দ মারুফ আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদে সংগঠনটির সামরিক শাখার প্রধান মাসুকুর রহমান ওরফে রণবীর ওরফে মাসুদের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে, জঙ্গি সংগঠনটির সামরিক শাখার প্রধান মাসুকুর রহমান ওরফে রণবীর ওরফে মাসুদ এবং আইইডি বা বোমা বিশেষজ্ঞ মো. আবুল বাশার মৃধা ওরফে আলম কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৭ এর এ-ব্লকে ভোর ৫টা হতে র‌্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা, র‌্যাব-২, র‌্যাব-৩ এবং র‌্যাব-১৫ এর যৌথ চিরুনি অভিযান শুরু করে। ব্লকটি ঘেরাওয়ের সময় সামরিক শাখার প্রধান রনবীর এবং বোমা বিশেষজ্ঞ বাশার পালানোর চেষ্টা করলে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়। উদ্ধার করা হয়-একটি বিদেশি পিস্তল, ৩টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, একটি ব্ল্যাংক কার্টিজ, দুটি একনলা বন্দুক, ১১টি ১২ বোরের কার্তুজ, একটি খালি খোকা, ১০০ রাউন্ড.২২ বোরের গুলি, একটি মোবাইল ফোন ও নগদ ২ লাখ ৫৭ হাজার ২৬০ টাকা। কমান্ডার মঈন আরও বলেন, তথাকথিত হিজরতের নামে ঘর ছাড়া ও পাহাড়ে আশ্রয় নিয়ে প্রশিক্ষণরত ৫৫ জনের তালিকা প্রকাশ করেছিল র‌্যাব। সেই তালিকায় নাম ছিল গ্রেফতার আবুল বাশারের।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ আবুল বাশার জানায়, গত ৩ অক্টোবর র‌্যাব এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান শুরু হওয়ার পর তিনি ৫৫ জনের দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পাহাড় থেকে পালিয়ে সিলেট যায় এবং সামরিক শাখার প্রধান রণবীরের কাছে আশ্রয় গ্রহণ করেন। তারা দুজন কয়েক দিন আগে নিরাপদ মনে করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আত্মগোপন করেছিলেন। এক প্রশ্নের জবাবে মঈন বলেন, আমরা মাত্র তাদের গ্রেফতার করেছি। তাদের বিশদ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা, অর্থসহ অস্ত্রের যোগানদাতা, টেকনাফ ও বান্দরবানসহ পাহাড়ে ছিনতাই-অপহরণে তাদের যোগাযোগ রয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হবে।

Leave a Comment