News Britant

Friday, January 27, 2023

খুলে গেল ডুয়ার্সের বামনডাঙ্গা চাবাগান, স্বস্তিতে ১২০০ শ্রমিক

Listen

( খবর টি শোনার জন্য ক্লিক করুন )

#মালবাজার: উৎকন্ঠার অবসান হল। প্রায় তিরিশ দিন পর খুলে গেল নাগ্রাকাটা ব্লকের বামনডাঙা চা বাগান। বাগানের ১২০০ শ্রমিকের উপর থেকে অনিশ্চিয়তার কাল মেঘ সরে গেল। বুধবার সকাল থেকে শ্রমিকেরা তাদের বিভিন্ন বিভাগের কাজে যোগদান করলেন। জলপাইগুড়ী ডেপুটি শ্রম কমিশনারের অফিসে ২০ জানুয়ারী ত্রিপাক্ষকি বৈঠকের চুক্তি অনুসারে ২৫ জানুয়ারীতে বাগান কতৃপক্ষ সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক নোটিশ প্রত্যাহার করার ফলে বাগানে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসল।
এক অংশের শ্রমিক ইউনিয়নের বাগানের কাজে অরাজকতা সৃষ্টি ও অবাঞ্চিত হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে বামনডাঙা চা বাগান কতৃপক্ষ ২৭ ডিসেম্বর থেকে বাগানে সাসপেনশন অব ওয়ার্ক নোটিশ দিয়ে বাগান ছেড়ে চলে যান। ।নিদারুন অসুবিধায় পড়ে যায় শ্রমিকরা।দ্রুত বাগান খোলার দাবী জানাতে থাকে  চা বাগান মজদূর ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক জিয়াউল আলম, রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেনী কল্যাণ মন্ত্রী বুলু চিকবরাইক, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বারলা বাগানে গিয়ে  শ্রমিকদের সাথে বাগান খোলার বিষয়ে কথা বলেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
মালবাজারে সহকারী শ্রম কমিশনারের তরফ থেকে২৯ ডিসেম্বর ও ৯ ই জানুয়ারী ত্রিপাক্ষিক মিটিং ডাকলে অনুপস্থিত থাকেন বাগান কতৃপক্ষ।অবশেষে  ২০ জানুয়ারী জলপাইগুড়ী  ডেপুটি শ্রম কমিশনারের অফিসে বাগান কতৃপক্ষ ও শ্রমিক ইউনিয়ন গুলির প্রতিনিধিরা আলোচনার পর সাত দফা  চুক্তিতে সই করেন ও বাগান খোলার সিদ্ধান্ত হয়।  বাগান তো খুলল,কিন্তু বন্ধ থাকার সময়ের মজুরী মিলবে না শ্রমিকদের। তবে বন্ধ সময়ের কাজের ধারাবাহিকতা ক্ষুন্ন হবে না।
বকেয়া বেতন দিয়ে দেওয়া হবে আগামী ৭ দিনের মধ্যে। যা হোক বাগান খোলায় খুশী শ্রমিক ও তার পরিবার।তৃনমুল শ্রমিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি সঞ্জয় কুজুর বলেন, আমরা শ্রমিকদের পাশে ছিলাম এবং সব সময় থাকব। আজ বাগান খুলে যাচ্ছে। এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। চা বাগান মজদূর ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক জিয়াউল আলম বাগান খোলার সিদ্ধান্ত ও খুলে যাওয়াকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন ইদানীং চা বাগানে এক শেনীর শ্রমিকের মধ্যে, দুস্কৃতী দৌরাত্ম বাড়ছে।
বিভিন্ন চা বাগানে আভ্যন্তরীন ব্যাপারে অবাঞ্চিত হস্তক্ষেপ হচ্ছে। বাগানের মালিকানাকে অস্বীকার করে বাইরে থেকে নিজেদের পছন্দ মত লোককে মালিকানায় বসাতে চাইছে। বেশ কিছু বাগানে এইরকম  প্রবনতা দেখা দিচ্ছে। প্রশাসনের নজড় এড়িয়ে এইভাবে চললে চা বাগান শ্রমিকরা পড়বেন বিপদে। এই বিপদগুলি সন্বন্ধে প্রশাসনের ওয়াকিবহাল হয়ে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যাবস্থা নেওয়া দরকার।

Leave a Comment