News Britant

প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও মেলেনি চাকরি, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কাতর আবেদন মুক ও বধির রাজীবের পরিবারের

Listen

( খবর টি শোনার জন্য ক্লিক করুন )

#রায়গঞ্জঃ জন্মথেকে মুক ও বধির থাকা সত্ত্বেও পড়াশোনায় বেশ ভালো। হাতের কাজ জানার সাথে সাথে কম্পিউটার ব্যবহার করতে সে পারদর্শী। ২০১০ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে ভালো ফলাফল করায় সংবর্ধনা প্রদান করেছিলেন রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তখনই মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে পেয়েছিলেন উচ্চমাধ্যমিক পাস করলে একটি সরকারি চাকুরির প্রতিশ্রুতি।
কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে ভালো ফলাফল করার পর কেটে গেছে ১০ বছর। তাই এবার রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কাতর স্বরে চাকরির আবেদন জানালেন জন্মথেকে মুক ও বধির রাজীব মজুমদার ও তার পরিবারের সদস্যরা।
জানা গেছে, ২০১০ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করে রাজীব মজুমদার।
মাধ্যমিক পরীক্ষায় সফলতার জন্য রাজ্য সরকার শুভেচ্ছা জানানোর পরও এককালীন ১০ হাজার টাকার চেক তুলে দেয় রায়গঞ্জ রবীন্দ্র পল্লীর বাসিন্দা শীর্ণকায় রাজীবের হাতে। সংবর্ধিত করেন তৎকালীন রায়গঞ্জ পৌরসভার পৌরপ্রধান মোহিত সেনগুপ্ত। তারপর করোনেশন হাই স্কুল থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি নিয়ে  উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে সে। সেখানেও কৃতিত্বের সাথে পাস করে  রাজীব।
জানা গেছে, রাজীবের বাবা সুরেশ মজুমদার রায়গঞ্জ আশা সিনেমা হলে কর্মরত ছিলেন। তাঁর প্রয়ানের পর পরই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি জানিয়ে ও আর্থিক সহয়তার কাগজপত্র সহ একটি যে কোনো সরকারি চাকুরির চেয়ে চিঠি লিখতে শুরু করে রাজীব। কিন্তু বারংবার আবেদন করেও মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে মেলেনি কোনো উত্তর। এদিন রাজীবকে পাশে নিয়ে তার মা কল্পনা মজুমদার বলেন, ও ভীষণ লড়াকু মানসিকতার ছেলে। ওর বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারে একটা চাকুরির ভীষণ প্রয়োজন।
তাই রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যদি একটু করুণা করে সহয়তার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে পরিবারটির ভালো হয়। একই বক্তব্য রাজীবের বোন রিংকিরও। সে বলে, আমার দাদা বোবা ও কালা হলেও ভীষণ ভালো হাতের কাজ জানে, কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারে। ও কাজ পেলে মন দিয়ে কাজ করবে এবং আমাদের পরিবার ঘুরে দাঁড়াবে।
রাজীবের চাকুরি হলে পরিবারটির আর্থিক অনটন দূর হবে বলে মনে করেন রায়গঞ্জের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রবীন্দ্রপল্লীর কোঅরডিনেটর অরুন চন্দ্র চন্দ। তিনি বলেন, রাজীবের মা হৃদরোগে আক্রান্ত। পারিবারিক উপার্জন প্রায় নেই। তাই একটি সরকারি চাকুরি পেলে পরিবারটি উপকৃত হবে।

Leave a Comment