News Britant

নতুন দপ্তরের দায়িত্ব নিয়ে সূর্যাপুরি আমের ঐতিহ্য ফেরাতে উদ্যোগী মন্ত্রী রাব্বানী

Listen

( খবর টি শোনার জন্য ক্লিক করুন )

#ইসলামপুর: বলা হয় আমের রাজত্ব মালদায়। কিন্তু উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর মহকুমার অভ্যন্তরে ঐতিহ্যবাহী আম হিসেবে পরিচিত সূর্যাপুরী। এলাকার প্রবীন মানুষেরা জানান, ছোটবেলা থেকেই সূর্যাপুরী আম খেয়ে বড় হয়েছেন তারা। কিন্তু এখন সময়ের সাথে সাথে বাজারে আমের প্রজাতির ভ্যারাইটি এসেছে। যার জাঁতাকলে সূর্যাপুরী আম তার ঐতিহ্য হারিয়েছে। এই আম এখন আর বাজারে পাওয়া যায় না।
এবারে সেই পুরোনো আমের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরন ও বিপননে উদ্যোগী হলে রাজ্যপর খাদ্য প্রক্রিয়াকরন ও উদ্যান পালন মন্ত্রী তথা গোয়ালপোখরের বিধায়ক গোলাম রব্বানী।  সেই আম বাজারে নিয়ে আসার জন্য কী করতে হবে সেজন্য দপ্তরের সমস্ত আধিকারিককে নিয়ে রিভিউ বৈঠক করেছেন মন্ত্রী। বিশেষ করে উত্তর দিনাজপুর ও সংলগ্ন বিহারে এই আম বিখ্যাত। সেই গৌরব ফিরিয়ে আনা হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
কিছুটা পেছনে তাকালে জানা যায়, ১৯৫৫ সালে স্টেট রি-অর্গানাইজেশন কমিশনের সুপারিশে ১৯৫৬ সালে বিহার থেকে ইসলামপুরকে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। বিহারের অংশ থাকাকালীন এই এলাকা সূর্যাপুর পরগনা বলে পরিচিত ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা সূর্যাপুরী ভাষায় কথা বলতেন। এখনও গ্রামাঞ্চলে বয়স্করা সূর্যাপুরী ভাষায় কথা বলেন। সেসময় এই এলাকায় স্বাভাবিক উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম ছিল আম গাছ। ওই আমই সূর্যাপুরী আম নামে পরিচিত।
বিভিন্ন মহলের দাবি, সূর্যাপুরী ভাষা থেকেই আমের নাম হয়েছে সূর্যাপুরী। স্বাদ ও সুগন্ধের জন্য সূর্যাপুরী আম ছিল মানুষের প্রথম পছন্দ। এলাকার মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি কাজ হলেও জনসংখ্য কম থাকায় অনেক জমি ফাঁকা পড়ে থাকত। একাংশ বাসিন্দারা ফাঁকা জমিতে সূর্যাপুরী আমের বাগান তৈরি করেছিলেন। বাড়ির আনাচে কানাচেতেও এই আমের গাছ থাকত। জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে আম পাকার মরশুম শুরু হতেই বাড়ি বাড়ি উৎসবের আকার নিত।
কিন্তু কেন হারিয়ে গেল সূর্যাপুরি আম? স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের উদাসীনতার ফলে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সূর্যপুরী আম। এখনও গ্রামাঞ্চলে খোঁজ করলে সামান্য পরিমাণ এই আম পাওয়া যায়। রোগপোকার আক্রমণ, বাণিজ্যিক ভাবে এর প্রচার ও প্রসার না হওয়ায় আম চাষে আগ্রহ হারিয়েছেন বাসিন্দারা। অনেক বাগান কেটে ফেলা হয়েছে।
চোপড়া, ইসলামপুর, গোয়ালপোখর ১ এবং ২ নম্বর ব্লক এলাকায় এখন এই আম গাছের সংখ্যা খুবই কম। ৪০-৫০ বছর আগে সূর্যাপুরী আমে রোগ পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। রোগ পোকার হাত থেকে আমকে রক্ষা করতে হিমশিম খেয়েছেন বাসিন্দারা। এর ফলে ধীরে ধীরে এর চাষ কমেছে। তবে মন্ত্রীর উদ্যোগে নতুন করে সূর্যাপুরীর গৌরব ফিরবে ভেবে আশাবাদী এলাকার মানুষ।

Leave a Comment