News Britant

Thursday, December 1, 2022

ভীনদেশী কুয়াশার পথ ধরে দুদিনের পাহাড়ি অবকাশ ‘মাইরুন’

Listen

( খবর টি শোনার জন্য ক্লিক করুন )

কৌশিক চট্টোপাধ্যায় : মোবাইলের জিপিএস ম্যাপে মাইরুন ফরেস্টর নামটা সার্চ করতেই দেখিয়ে দিলো শিলিগুড়ি থেকে প্রায় ৮৩ কিলোমিটারের পাহাড়ি পথ ৷ অগত্যা জিপিএস ম্যাপের দেখানো পথ ধরে শিলিগুড়ি শহরের যানযট পেড়িয়ে শালুগারা জঙ্গলের বুক চিরে গাড়ি এগিয়ে চললো সেবক রোড ধরে৷ বেঙ্গল সাফারি পার্কের এলাকা পেরোতেই ট্রাফিক অনেকটাই কমে এলো। ড্রাইভার অমনি এক্সিলেটরে চাপ দিতেই যেন গাড়ির চাকা ছুটতে শুরু করলো হিমালয়ের চৌম্বকীয় আকর্ষণে। দুপাশে আকাশের দিকে মাথা তুলে থাকা শাল সেগুনের বনের মধ্য দিয়ে আঁকাবাঁকা পথ পেড়িয়ে ততক্ষণে গাড়ি একটু একটু করে উঠতে শুরু করে দিয়েছে পাহাড়ি পথবেয়ে। বাতাসে পূজোর ছুটির আমেজ আর পাহাড়ের গায়েগায়ে সোনালী রোদের আলো আঁধারির খেলা। তারমধ্যেই সারি সারি গাড়ি মাথা ভর্তি লাগেজ নিয়ে ছুটে চলছে ডেস্টিনেশনের উদ্দেশ্যে। হাতের জর্দা পানটাকে মুখের একেবারে ভেতরে ঠেসে দিয়ে প্রনব বাবু বলে উঠলেন ‘ যাই বলো ভায়া উত্তর বঙ্গ ইস উত্তর বঙ্গ, তুলনা পাওয়া ভেরি টাফ ‘ গাড়িটাকে সামান্য স্লো করতে বলে জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে পানের পিকটা ফেলে রুমাল দিয়ে মুখটা মুছে বললেন’ আসামে তো অনেক বছর থেকেছি,পাহাড় আমার কাছে নতুন কিছুনা। কিন্তু তরাই,ডুয়ার্স আর পাহাড় মিলে উত্তরবঙ্গের এই পাহাড়টাতে বেশ একটা মাখোমাখো ভাব আছে বুঝলেন কিনা অনেকটা পেঁয়াজ,রসুন আর টমেটো দিয়ে তৈরি করা ডিমের কাড়ির মতো মাখোমাখো ভাব। ‘ততক্ষনে আমার মোবাইলে মাইরুনের মেলসন হোম স্টের মালিক রূপেশ তামাং এর দ্বিতীয় বার ফোন এসে গিয়েছে৷ আমার হোয়াটস অ্যাপ থেকে পাঠানো লাইভ লোকেশন দেখে বেশ উত্তেজিত ছেলেটি। ফোনের ওপার থেকে বলে উঠলো ‘যাদা সে যাদা অর দো ঘন্টা লাগেগা ভাইয়া। রাস্তা একদম ঠিকঠাক হ্যায়। আপলোগ ডিনারমে কেয়া লেগা?’ প্রনবদার দিকে তাকিয়ে বললাম ‘ চাউল অর আণ্ডাকারি আর তারসাথে যদি মুচমুচে আলুভাজা পাওয়া যায়, তো আচ্ছা হোগা ‘রূপেশভাই মুচকি হেসে ফোন রেখে দিলো।

ডানদিতে অবিশ্রান্ত বয়ে চলা তিস্তা আর বাঁপাশে হিমালয়ের আকাশচুম্বী সেরিমেন্ট রকওয়াল। মাঝেমাঝে ছোটছোট পাহাড়ি ঝরনা দিয়ে ঝিরঝির করে জল নামছে নীচের দিকে। তিস্তাবাজার থেকে ডানদিকে ঘুরে কালিম্পং এর পথে এগোতে থাকলাম আমরা। গাড়ির জানলা দিয়ে একচিলতে মৃদু ঠাণ্ডা হাওয়া এসে আমাদের আধারকার্ড দেখতে চাইতেই হাতের ব্যাগটা থেকে বৌদির গুছিয়ে দেওয়া মেটে রঙের মাফলারটা বেরকরে মাথায় গলায় পেঁচিয়ে নিলো প্রনবদা৷ হাসিহাসি মুখে আমার দিকে চেয়ে বললেন ‘ এই ঠাণ্ডা গরমই হলো যতো নষ্টের গোরা। খুশখুশে কাশি, গলা ব্যাথা,জ্বরজারি এক্কেবারে যাতা ব্যাপার বুঝলে ভাইয়া । তাড়াতাড়ি ব্যাগের ভেতর থেকে কিছু একটা ওষুধের বোতল থেকে সামান্য ওষুধ মুখে ঢেলে আমার দিকে তাকিয়ে বললো ‘এ হলো অ্যাডভান্স প্রোটেকশন।’ জিপিএস ম্যাপের নির্দেশ মেনে কালিম্পং এর পথ থেকে ‘আলদারার’ পথ ধরলো আমাদের গাড়ি। এখান থেকে মাইরুন প্রায় ১৮ কিলোমিটার। ততক্ষণে সাধারণ জামাকাপড়ের সাহসকে ভেদকরে শীত কুকুরেরা কামড় বসাতে চাইছে শরীরের আনাচেকানাচে। আরেকটু এগোতেই মুখের ভেতর থেকে দাঁতের ঠকঠকে আওয়াজ টের পেলাম।

অগত্যা আর দেরি নয় ব্যাগের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে একেএকে বের করে আনলাম যুদ্ধের ঢাল তলোয়ারের মতো জ্যাকেট, সোয়েটার আর টুপি৷ কিছুক্ষণের মধ্যে দাঁতের ঠকঠকানি বন্ধ হতেই বুঝতে পারলাম এবারের যুদ্ধে শীতকুকুরদের সাময়িক পরাজিত করা গিয়েছে। অন্ধকার পাহাড়ি আঁকাবাকা পথ বেয়ে আমাদের গাড়ি এগিয়ে চলছে আলগারার দিকে৷ দূরে পাহাড়ের গায়ে প্রদীপের মতো আলোজ্বলছে৷ যেনো অকাল দীপাবলীতে সেজে উঠেছে গোটা পাহাড়। আর আমরাও এগিয়ে চলেছি সেই দীপাবলীর দেশের দিকেই। শীতের আমেজে প্রনবদার নাক থেকে একটা ঘরঘর আওয়াজ বেড়হচ্ছে। আলগাড়াতে এসে গাড়ি দাঁড়াতেই আচমকা ঘুমের দেশ থেকে বেড়িয়ে এসে প্রনবদা হাসিহাসি মুখে বললো ‘ এসে গেছি?’ কিন্তু ড্রাইভারের কথায় আরো চার পাঁচ কিলোমিটারের রাস্তা বাকির কথা শুনে কিছুটা হতাশ হয়ে গায়ের চাদরটা টেনে নিয়ে ফের ঘুমের দেশে ঢোকার প্রস্তুতি নিতে থাকলো। ঘড়ির কাঁটা প্রায় সাতটা ছুঁইছুঁই আমরা গিয়ে পৌছালাম মাইরুনের পাহাড়ি গ্রামে৷ গ্রামে আমাদের গাড়ি পৌছাতেই রূপেশ ছুটে এলো আমাদের কাছে। গাড়িটা রেখে এগিয়ে চললাম ওর হোম স্টের দিকে। একেবারে সদ্য তৈরি হওয়া হোম স্টের তিনটে ঘরে অতিথিদের থাকার ব্যবস্থা আছে। বারান্দায় দাঁড়াতেই চক্ষুস্থির হয়ে এলো আমাদের। কোজাগরী পূর্নিমার আলোয় ভেসে যাচ্ছে সামনের দিগন্ত বিস্তৃত পাহাড়ের প্রতিটি ভাঁজ । চাঁদের মায়াবী আলো এসে পরেছে সামনের ন্যাওড়া ভ্যালি জঙ্গলের আনাচেকানাচে। পাহাড়ের গায়ে লেগে থাকা জমাট অন্ধকার, ঝিঁঝিঁপোকার ডাক আর বিন্দুবিন্দু জোনাকির আলো৷ রাতের বারান্দায় ধোঁয়া ওঠা চায়ের পেয়ালায় চুমুকের সাথে সাথে একসাথে পাঁচ সাতটা পেঁয়াজি মুখে পুরে প্রনবদা রূপেশকে জিজ্ঞাসা করলো ‘ভাইয়া সাইড সিনকে লিয়ে কাল কাহা কাহা জানা হ্যায়?’

রূপেশ তামাং বয়স তিরিশের আশেপাশে, ভীষন চটপটে আর অসাধারণ ড্রাইভিং সেন্স৷ প্রনবদার কথায় বেশ উত্তেজিত হয়ে বললো ‘ কাল আপকো রিকিসামমে ট্রেক করনে লে যায়েঙ্গে অর উসকে বাদ জঙ্গল ঘুমানে লে যায়েঙ্গে। ‘ চায়ের কাপে একটা সুখের চুমুক দিতে গিয়ে জঙ্গলের নাম শুনেই থেমে গেলো প্রনবদা। ভুরু কুঁচকে বললো ‘ জঙ্গলমে জানোয়ার হ্যায় না? ‘ রূপেশ মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়ে বললো ‘ ডরনেকি কোয়ি বাত নেহি হ্যায় ভাইয়া, ম্যায় হুঁ না ‘

গল্পেগল্পে ভীনদেশী কুয়াশার পথ ধরে রাত বারছে মাইরুনের পাহাড়ি উপত্যকায়। তাপমাত্রার পারদ নামছে দ্রুতগতীতে। রাতের খাওয়াদাওয়া শেষ হতে হতে ঠান্ডার আক্রমণ অনেকটাই বেড়ে গেল, অগত্যা সোজা লেপ-কম্বলের তলায় আত্মগোপন।
দরজার কড়া নারার আওয়াজে ঘুম ভাঙলো। সামনের কাঁচের আবরণ ভেদ করে ভোরের মিষ্টি আলো এসে পরেছে সকালের বিছানায়৷ কোনরকমে গরম জামাকাপড় গায়ে দিয়ে বিছানা ছাড়লাম। দরজা খুলতেই চায়ের ট্রে হাতে নিয়ে রূপেশ আর তার স্ত্রী৷ চায়ের কাপ হাতে নিয়েই বারান্দার এসে দাঁড়ালাম। সামনে দিগন্ত বিস্তৃত পাহাড়ের আনাচেকানাচে তখন সূর্যের আলোর লুকোচুরি আর দূরের পাহাড়ের আড়াল থেকে মাথা তুলে আছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। সকালের সোনালী রোদে চকচক করছে কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়াগুলি৷ রূপেশের কথাতেই জানতে পারলাম আবহাওয়া ভালো থাকলে মাইরুন থেকে খালি চোখেই সামনে জুলুকের জিগজ্যাগ রাস্তাটা স্পষ্ট দেখা যায়। আর রিকিসামের সবচেয়ে উঁচু অংশ থেকে চীনের বর্ডার এবং কাঞ্চনজঙ্ঘার অসাধারণ ভিউ পাওয়া যায়। চা পর্ব শেষ করেই প্রনবদাকে নিয়ে গাড়ি করে ছুটলাম রিকিসামের উদ্দেশ্যে। পাহাড়ি আঁকাবাকা পথের চড়াই উতরাই বেয়ে গাড়ি উঠতে শুরু করেছে আরেকটু ওপরের দিকে। প্রায় কুড়ি মিনিটের রাস্তা পার করে পৌঁছে গেলাম রিকিসামে। ছবির মতো সুন্দর ছোট্ট একটা পাহাড়ি গ্রাম ‘রিকিসাম’৷ ছোটছোট বাড়ি আর দোকানের সামনে নানা রঙের ফুলের সমাহার। রূপেশের কাছ থেকেই জানতে পারলাম সামনের পাহাড়ের মাথায় একটা ব্রিটিশ বাংলোর ধ্বংসাবশেষ আছে। প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা ট্রেক করে যেতে হয়।

‘ট্রেকিং? সেতো বিরাট ঝামেলার ব্যাপার। ওসব আমার দ্বারা হবেনা।’ প্রনবদার মুখে বিরক্তির ছাপ। রূপেশও নাছোড়বান্দা অগত্যা গাছের দুটো সরু ডাল কুড়িয়ে ট্রেকিং স্টিকের মতো বানিয়েছে রূপেশের পিছু নিলাম আমরা৷ পাহাড়ি জঙ্গল পেড়িয়ে ব্রিটিশ বাংলোর কাছে পৌঁছতেই মনটা খারাপ হয়ে গেলো। একসময় পাহাড়ের একেবারে মাথায় তৈরি এই বাংলোটি ছিলো সেই সময়ের সাহেবদের গ্রীষ্মকালীন থাকার জায়গা। সাহেবরা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পরে কোনো কারনে এই বাংলোটি ভেঙে ফেলা হয়৷ বাংলোর একটা ভাঙা দেওয়ালে বসে প্রনবদা হাঁপাতে হাঁপাতে বললো, ‘এতটা কাঠখড় পুড়িয়ে এই ভাঙা বাড়ী দেখতে আসার কোনো মানে হয়?’ মেঘের আড়াল সরিয়ে একটুএকটু করে জেগে উঠছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। দূরে চীনের বর্ডার, পাশেই বিরাট ন্যাওরাভ্যালী জঙ্গল। একপলকেই যেনো ট্রেকিং এর যাবতীয় ক্লান্তি উধাও। তবে পরিত্যক্ত ব্রিটিশ বাংলোর ভগ্নাবশেষ দেখে মনটা সত্যিই খারাপ হয়ে গেলো৷ অন্ততঃ রক্ষনাবেক্ষনের মাধ্যমে এই বাংলোকে ঘিরে একটা সুন্দর ট্যুরিস্ট স্পট তৈরি করা যেতো । হাঁটা পথে আবার ফিরে চললাম রিকিসামের দিকেই। নামার পথটা এক কিলোমিটার বেশি হলেও অনেকটাই ভালো পথ৷ পাইন,শাল,সেগুনের বন আর জঙ্গলী ঝোপঝাড় পেড়িয়ে দ্রুত নেমে এলাম আমরা। গাড়ি করে চললাম পরবর্তী ডেস্টিনেশনের দিকে৷ পেডং এর প্রায় ২০০ বছরের পুরনো গুম্ফা দেখে ফিরে এলাম হোম স্টেতে। পেটের ভেতর খিদেটা বেশ চাগার দিয়ে উঠছে৷ লাঞ্চ সেরেই আবারো দে ছুট। এবারে চললাম পাঁচ কিলোমিটার নিচে ছাঙ্গি ফলস দেখতে। ছাঙ্গি ফলস যাওয়ার পথে গাড়ি দাঁড়ালো ফতিমা গাঁও এলাকায়। এখানেই আছে এই এলাকার সবচেয়ে পুরোনো ঘর৷ প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি পুরনো হলেও সেই সময়ের কাঠের ঘর তৈরি করতে বেশ কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিলো যা দেখলে সত্যিই অবাক হয়ে যেতে হয়৷
লরেন্স লেপচা এই বাড়ির বর্তমান মালিক। প্রচন্ড উৎসাহের সাথে গোটা এলাকা ঘুরে দেখালেন। পাশেই ভ্রমণার্থীদের থাকার জন্য তৈরি করেছেন বাঁশের হোমস্টে। হোমস্টেয়ের দুটো ঘর সামনে একটা সাজানো গোছানো ছোট্ট জলাশয় আর তার পাশে বাঁশ দিয়ে তৈরি একটা ব্রীজ। এককথায় ছবির মতো সুন্দর গোটা এলাকা৷ এখান থেকে সামান্য পথ এগোলেই সামনে এখানকার বিখ্যাত ছাঙ্গি ফলস৷ পাহাড়ের বেশ অনেকটা উঁচু থেকে একনাগাড়ে জলধারা নেমে আসছে নীচের দিকে৷ ছাঙ্গি ফলসে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে ফিরে চললাম মাইরুনের দিকে৷ পড়ন্ত সূর্যের লাল আলো গাছের ছায়ার সাথে খেলে বেড়াচ্ছে পাহাড়ের আনাচেকানাচে। দূরের পাহাড়ের আরালে মুখ লুকোচ্ছে সূর্যদেব৷ পাহাড়ের দীর্ঘ ছায়ার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে গোটা উপত্যকা৷ দূরে প্রদীপের আলোর সাজে সেজে উঠছে ‘মাইরুন’। আমাদের গাড়ি অন্ধকার পাহাড়ি পথ বেয়ে এগিয়ে চলছে সেদিকেই। সারাদিনের ক্লান্তি চেপে বসছে শরীরটাতে। প্রনবদা গাড়ি সিটে বসেই ঘরঘর আওয়াজ করে ঢুলছে৷ আমারো দুচোখে ঘুম নেমে আসছে।

রাতে হোমস্টেতে ফিরতেই স্থানীয় খাবার ‘ওয়াচিপ্পা’ আর চা দিয়ে আমাদের স্বাগত জানালো রূপেশের স্ত্রী। চিকেন আর মুড়ি দিয়ে তৈরি এই ওয়াচিপ্পা এদের ট্রাডিশনাল ফুড৷ খেতেও বেশ সুন্দর৷ সারাদিনের ক্লান্তি একেবারে চেপে ধরেছে আমাদের। ঠান্ডা বাড়ছে। কাল সকালেই ফেরার পালা তাই চটপট গোছগাছ সেরে নেওয়া। রাতের খাওয়ার সেরে সোজা লেপের তলায় আশ্রয়।

পরিস্কার আকাশে ঝলমলে রোদ খেলে বেড়াচ্ছে মাইরুনের পাহাড়ি গ্রামের । লাগেজ নিয়ে গাড়ি প্রস্তুত ফেরার পথ ধরবার জন্য। এখান থেকে ১৫ কিলোমিটার লাভা সেখান থেকেই শিলিগুড়ির দিকে ফিরবো আমরা৷ রূপেশ তামাং ও তার পরিবারের কাছ থেকে এবার বিদায় নেওয়ার পালা।
ভারাক্রান্ত মনে রূপেশ বললো ‘ ফির আনা ভাইয়া ‘। আমাদের গাড়ি এগিয়ে চলছে সমতলের দিকে। হোম স্টের সামনে দাঁড়িয়ে হাত নাড়িয়ে বিদায় জানাচ্ছে রূপেশ আর একে একে পাহাড় পেড়িয়ে, মেঘের রাজ্য পেড়িয়ে,সোনালী রোদে মাথা তুলে যেন আমাদেরই বিদায় জানানোর জন্য দাঁড়িয়ে প্রিয় ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’।

কিভাবে যাবেন : এনজেপি বা শিলিগুড়ি জংশন থেকে রিজার্ভ গাড়ি করে কালিম্পং হয়ে মাইরুন। কালিম্পং থেকে লাভা যাওয়ার রাস্তা থেকে আলগারা হয়ে মাইরুন প্রায় ১৮ কিলোমিটার। লাভা হয়ে গেলে ১৫ কিলোমিটার। প্রয়োজনে গুগুল ম্যাপের সাহায্য নিতে পারেন।

কোথায় থাকবেন : মাইরুনে একটিই হোমস্টে আছে। মাথাপিছু খরচ প্রতিদিন – ৮০০ থেকে ১০০০ যোগাযোগ করুন রূপেশ তামাং ফোন -7407627807
মাইরুন থেকে একটু নিচে ফতিমা গাঁও দুটো বাঁশের কটেজ আছে। যোগাযোগ করুন লরেন্স লেপচা অথবা রূপেশ তামাং, ফোন 7407627807

News Britant
Author: News Britant

Leave a Comment