বিশ্বে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


#হাবিবুর রহমান, ঢাকা: স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৩ বছরে দল ও সরকার পরিচালনায় অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন জাতির পতিা বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে টানা চার এবং সব মিলিয়ে পঞ্চমবার প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন তিনি। এরইমধ্যে মন্ত্রিসভার শপথ নিয়ে চলছে প্রস্তুতি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ হবে বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি)। এ সময় ১৩০০-১৪০০ অতিথি আমন্ত্রিত থাকবেন। তাই শপথ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এরপর জাতীয় সংসদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে মুজিবকন্যা, মানবতার জননী শেখ হাসিনাকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হবে। একই সাথে তিনি পঞ্চম বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে নিজেকে একজন সৎ, যোগ্য, দক্ষ, অভিজ্ঞ, মানবিক এবং লৌহমানবী হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। একই সাথে তিনি বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। আপন মহিমায় সমুজ্জ্বল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি বিশ্বে কোনো নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পঞ্চম বারের মতো ক্ষমতাসীন হওয়ার অনন্য নজির ও গৌরবের মুকুটের অধিকারিও হবেন তিনি। এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী চার চার বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শেখ হাসিনাকে ইতোমধ্যে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ‘শেখ হাসিনা ইজ দ্য গ্রেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

মিয়ারমারের সামরিক জান্তা কর্তৃক নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মাদার অব হিউমিনিটি তথা মানবতার মাতা খেতাবে ভূষিত করা হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর এসব অর্জনে জাতি হিসেবে বিশ্বে সম্মানের এবং মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের এমন কথা জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন। ৭ জানুয়ারি সারা দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারিভাবে পাওয়া ফলাফলে ২৯৮ আসনের মধ্যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২২৪ আসন, জাতীয় পার্টি ১১টি আসনে জয় পেয়েছে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের হার এবার বেশি। তারা ৬২টি আসনে জয় পেয়েছেন।

আর মহাজোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদের প্রার্থী নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে একটি করে আসন পেয়েছেন। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিমও কক্সবাজারের একটি আসন থেকে জয় পেয়েছেন। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংঘর্ষের ঘটনায় ময়মনসিংহ-৩ আসনের ফলাফল স্থগিত করেছে। পাশাপাশি নওগাঁ-২ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে পরবর্তীতে ওই আসনে নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছে ইসি। এরআগে ২০১৮সালের ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার যাত্রা শুরু করে। একই সঙ্গে গত ২৩ ডিসেম্বর উপমহাদেশের অন্যতম প্রচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ২২তম কাউন্সিলে টানা নবমবার দলটির সভানেত্রী হয়েছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে সবচেয়ে বেশি সময় সরকার ও দলের দায়িত্ব পালনের রেকর্ডও তার। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটির শীর্ষ পদে ৪২ বছর ধরে অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

মৃত্যুর ভয়কে পায়ের ভৃত্য করে সততা, প্রজ্ঞা, দক্ষতা, দূরদর্শিতা, বিচক্ষণতা আর সাহসী নেতৃত্বগুণে শেখ হাসিনা অনেক আগেই দেশের গণ্ডি পেরিয়ে স্থান করে নিয়েছেন বিশ্বনেতৃত্বের কাতারে। মার্কিন ম্যাগাজিন ফোর্বস এ বছরের বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকা সম্প্রতি প্রকাশ করেছে। তালিকায় ২৯তম অবস্থানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী পাঁচ বছর সফলভাবে দেশ পরিচালনার মাধ্যমে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী নারী সরকারপ্রধানের রেকর্ড গড়ার পথে পা দিয়েছেন তিনি। আধুনিক গণতান্ত্রিক বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা নারী সরকারপ্রধানের এলিট ক্লাবে প্রবেশ করেছেন ৭৭ বছর বয়সি শেখ হাসিনা।

বর্ণাঢ্য সংগ্রামমুখর জীবন শেখ হাসিনার: এক বর্ণাঢ্য সংগ্রামমুখর জীবন শেখ হাসিনার। ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে ছয় বছর যন্ত্রণাময় প্রবাসজীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফেরেন। এর আগে ঐ বছরের ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ত্রয়োদশ সম্মেলনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাকে দলের সভানেত্রী নির্বাচিত করা হয়। এরপর টানা নয়বার আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ১৯৯৬ সালে। ঐ বছরের ১২ জুন অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। ২০০১ সালে মেয়াদ শেষে শান্তিপূর্ণভাবে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয় বিএনপির কাছে। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরে জটিলতা সৃষ্টি করলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে।

প্রায় দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে। এতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। এ নির্বাচনের পর ঐ বছরের ১২ জানুয়ারি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শেখ হাসিনা। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ১১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন এই মহিয়সী নারী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা নজির সৃষ্টি করে চলেছেন: পৃথিবীতে এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একযোগে প্রায় ৭০ হাজার গৃহহীন পরিবারকে বাড়ি করে দিয়ে তাদের নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখিয়েছেন তিনি। দিয়েছেন বেঁচে থাকার অবলম্বন। এটি পৃথিবীর ইতিহাসে মানবতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। গত বছরের ২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে প্রায় নয় লাখ মানুষকে জমিসহ পাকা ঘর করে দেয়ার প্রক্রিয়া চলমান। ইতিমধ্যে প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৭০ হাজার বাড়ি নির্মাণ হয়েছে।

News Britant
Author: News Britant

Leave a Comment

Choose অবস্থা