জোনাল স্পোর্টসের আয়োজন নিয়ে বিতর্ক শিক্ষা মহলে

#মালবাজার: শনিবার সমাপ্ত হলো জেলা বিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জোনাল পর্ব। খেলা শেষ হতেই বিতর্ক সৃষ্টি হলো খেলার আয়োজন নিয়ে। বেশ কিছু বিদ্যালয়ের অভিযোগ, জোনাল স্পোর্টসের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে আলোচনা করা হয় নি তাদের সাথে। এমনকি অধিকাংশ বিদ্যালয়ে পৌঁছায় নি বৈঠকের চিঠি। এসব অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে দ্বিধাবিভক্ত হলো শিক্ষা তথা ক্রীড়া মহল।
ঘটনা প্রসঙ্গে জানা গেছে, বিগত বছরে যখন জোনাল স্পোর্টস আয়োজন হয়েছিল, তখন বিদ্যালয়ের প্রধান দের কাছে চিঠি এসেছিল। এমনকি প্রধান শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করেই জোনাল স্পোর্টসের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়েছিল। কারণ, সমস্ত বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সমাপ্ত না হলে জোনাল স্পোর্টস করা যায় না। তবে এ বছরের জোনাল স্পোর্টসে তাল কাটলো আয়োজকদের। ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল ওফ স্কুল গেমস ও স্পোর্টসের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এই খেলা আয়োজন সংক্রান্ত কোন চিঠি বা তথ্য পায় নি বেশ কিছু বিদ্যালয়।
এক বিদ্যালয়ের সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মাল মহকুমার সমস্ত উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষকদের নিয়ে একটি হোয়াইটস্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হয়েছিল। সেই গ্রুপেই চলতো গেমসের তথ্য আদানপ্রদান। অনলাইনে শেষ বার ১৪ ই জানুয়ারি বৈঠক হলেও ৭০% বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষকরা অনুপস্থিত ছিলেন। বিতর্কের সৃষ্টি সেখানেই, এত বৃহৎ পরিসরে জোনাল স্পোর্টসের আয়োজন করা হলেও কেন সশরীরে বৈঠক আহ্বান করা হলো না।
সমস্যার ইতি এখানেই নয়, বিগত বছর থেকেই কোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাঠে দেখা যায় নি জোনাল স্পোর্টসের সম্পাদক তথা ওমর আলি উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক গৌতম নার্জিনারী কে, এমনটাই অভিযোগ করেছেন জেলা বিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নিলেন্দু রায়। বহু বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া এখনো হয় নি, সেই সমস্ত বিদ্যালয়ের কৃতী খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ কি হবে?
ওদলাবাড়ি সুনীল দত্ত বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মধুমিতা ধর বলেন, কোনো বিদ্যালয়ের সাথে আলোচনা না করেই জোনাল স্পোর্টসের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে, এতে বেশ কিছু প্রতিভাবান ছাত্রী বঞ্চিত হলো। ডামডিম গজেন্দ্র বিদ্যাপিঠের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিক উৎস কর জানান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতার কোনো চিঠি পাই নি, সব কিছু ডিজিটাল হয় না, স্কুলে চিঠি আসলে অবশ্যই আমরা আমাদের বার্ষিক ক্রীড়া আগিয়ে আনতাম।
জেলা বিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থার জোনাল কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সম্পাদকের দায়িত্ব এই খেলা পরিচালনা করার, আমি এই কমিটিতে নতুন, সেভাবে কিছুই জানি না। সম্পাদক তার দায়িত্ব পালন করতে না পারলে তার ইস্তফা দেওয়া উচিত। এ বিষয়ে, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিলেন্দু রায় জানান, এত বড় খেলা পরিচালনা শুধু কমিটির পদাধিকারী দিয়ে হয় না, ত্রুটি বিচ্যুতি ভুলে অন্যান্য ক্রীড়া শিক্ষকদের সহযোগিতা প্রয়োজন ছিল।
News Britant
Author: News Britant

Leave a Comment

Choose অবস্থা