রাতভর বৃষ্টিতে জল সঞ্চার হলো নদী ও ঝোড়ায়, জল বাড়লো তিস্তায় স্বস্তি ডুয়ার্সে

#মালবাজার: নিদাঘের তীব্র দাবাদহের পর অবশেষে অঝোর জলধারায় সিঞ্চিত হলো তিস্তা পারের ডুয়ার্সে এলাকায়। শুখনো নদী ও ঝোড়ায় জলের সঞ্চার ঘটলো এবং জলস্তর বাড়লো তিস্তায়। স্বস্তি ফিরলো ডুয়ার্সের চাবাগান সহ জনজীবনে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস ছিল বৈশাখী কৃষ্ণ আমাবস্যার পর থেকে বৃষ্টির বারিধারায় সিঞ্চিত হবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত।উত্তরের আকাশেও মেঘের ঘনঘটা দেখা যাবে।
তাপমাত্রার পারদ অনেকটাই নিচে নামবে। সেই পূর্বাভাস অনুযায়ী শনিবার বিকাল থেকে আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখা যায়। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু প্রত্যাশিত বৃষ্টি। রাত বাড়ার সাথে সাথে বৃষ্টির ধারা প্রবাহ বাড়তে থাকে। রবিবার সকাল ১০ নাগাদ চলে সেই বারিধারা। এই বারিধারাই উত্তরের ডুয়ার্স এলাকার স্বাভাবিক ছন্দ। এই বৃষ্টির ধারায় শুধু মাটি সিক্ত হলো না সেইসাথে তাপমাত্রার পারদ অনেকটাই নিচে নেমে এলো। এতেই স্বস্তি সবার মনে।
গত মাঘ, ফাল্গুন চৈত্র মাসে এবার বৃষ্টির দেখা পাওয়া যায়নি। নববর্ষের সন্ধ্যায় এক পশলা বৃষ্টির পর তাপমাত্রার পারদ ক্রমাগত উর্ধমুখি হতে শুরু করে। প্রায় ৪০ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ছুয়ে যায় তাপমাত্রা। এই তাপমাত্রা ডুয়ার্সের পরিবেশে অভিপ্রেত নয়। যার ফলে শুখিয়ে যায় বাড়ির কুয়ো ও নদী ঝোড়া ও এদিক ওদিক জলাশয়। শুখিয়ে মরতে শুরু করে সুপারি সহ অন্যান্য অর্থকারি ফসলের গাছ। ডুয়ার্সের অর্থনীতির বুনিয়াদ চা গাছ পর্যন্ত শুখিয়ে যেতে শুরু করে। এই রকম পরিবেশে সবার চাহিদা ছিল বৃষ্টির।
সেই আশা পূরণ করে শনিবার রাতভোর বৃষ্টিতে সবার মনে স্বস্তি ফেরে। বৃষ্টিতে তিস্তার জলস্তর বেশ কিছুটা বেড়ে ওঠে। তিস্তার পারে থাকা মাল ব্লকের টটগাও বস্তিতে এবার সদ্য নির্মিত বাঁধের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারেনি তবে সাওগাও বস্তিতে আবাদি জমিতে তিস্তার জল ঢুকে যায়। জলস্রোত দেখা যায় মাল, চেল, নেওরা নদীতে।
সোনগাছি চাবাগানের ম্যানেজার রাধেশ্যাম খান্ডেলওয়াল জানান, খানিকটা স্বস্তি এসেছে তবে আরও বৃষ্টির দরকার আছে। জলের অভাবে রেড স্পাইডার, লুপার চা গাছে ছেয়ে গিয়েছিল। ফাস্টফ্লাসে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। আশাকরি বৃষ্টির ধারাবাহিকতা থাকবে। গ্রামাঞ্চলেও স্বস্তি ফিরেছে।
News Britant
Author: News Britant

Leave a Comment

Choose অবস্থা