আত্মীয় পরিজনহীন প্রবীণ সঙ্গীতশিল্পী ক্ষুদিরাম সাহা হাসপাতালে শয্যাশায়ী

#মালবাজার: মালবাজার শহরের প্রবীণ সঙ্গীত শিল্পী এবং সঙ্গীত শিক্ষক আত্মীয় পরিজনহীন অবস্থায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছেন। ক্রমশ তার জীবনের দিন ফুরিয়ে আসছে। নিজের জমানো অর্থ তুলতে পারছেন না। শালবাড়ির এক আশ্রম অধ্যক্ষ সন্ত লাল নাইক নিয়মিত দেখা শোনা করেন। শহরের কয়েকজন শিল্পী খোজখবর করেন। শেষ বেলায় কি হবে? তাতেই উদ্বিগ্ন অনেকে।
আজ থেকে প্রায় ছয় দশক আগে মালবাজার শহরের জনসংখ্যা ছিল সীমিত।অবসর যাপনে অনেক বাড়িতে গান শেখার আগ্রহ ছিল। বিশেষ করে মেয়েদের গান শেখানোর প্রথা ছিল। সেই সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে গান শেখাতেন ক্ষুদিরাম সাহা। শহর ও আশেপাশের চাবাগানে তার বহু ছাত্রছাত্রী ছিল। থাকতেন বাজার রোডের এক ভাড়া বাড়িতে। জানা যায়, তিনি একসময় কোন একটি বিশেষ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন যার কারণে অকৃতদার থেকে গেছেন।
রামকৃষ্ণ মিশনের দীক্ষিত ছিলেন। এইভাবে কয়েক দশক কেটে যাওয়া পর শরীর অশক্ত হয়ে পড়ে। গান শেখানোর কাজে ভাটা পড়ে। বছর দশেক আগ্র আশ্রয় নেন চালসা সংলগ্ন এক শিশু আশ্রমে। সম্প্রতি বার্দ্ধক্য জনিত কারনে চলাফেরার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। আশ্রমের অধ্যক্ষ সন্তলাল নাইক তাকে মাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। শ্রী নাইক বলেন, উনি গত ২০ দিন থেকে তরল আহার করছেন। কথা বন্ধ। ওনার কিছু টাকা পোস্ট অফিসে আছে। কিন্তু,তুলতে সমস্যা হচ্ছে। আত্মীয় পরিজন কেউ নেই। কিছু হলে শেষ কাজ আমাকে করতে হবে।
মালের প্রবীন সঙ্গীত শিল্পী শম্ভু দত্ত বলেন, উনি সংসার করেনি। আত্মীয় কেউ আছে বলে জানিনা।তবে ওনার শুভাকাঙ্ক্ষী অনেকে আছেন। বিশিষ্ট তবলা বাদক বঙ্কিম নাহা জানান, আমি হাসপাতালে দেখে এসেছি। পোস্ট অফিসের মেটাতে চেষ্টা করছি। পরিবার পরিজন হীন অবস্থায় এভাবেই আছেন এক প্রায় নব্বই এক সঙ্গীত শিল্পী।
News Britant
Author: News Britant

Leave a Comment

Choose অবস্থা