পড়ুয়াদের সংখ্যা দিনকে দিন কমছে সরকারি বিদ্যালয়ে, চিন্তায় শিক্ষামহল থেকে প্রশাসনিক কর্তা সকলেই

#শুভজিৎ দাস, রায়গঞ্জ: ক্লাসে উপস্থিত একজন ছাত্রী, আর তাকে পড়াচ্ছেন একজন মাস্টারমশাই। অনেক সরকারি বিদ্যালয় সম্পর্কে এই চিত্রটা কম বেশি অনেকেরই পরিচিত। ফের একবার এমনই এক চিত্র ভেসে উঠল রায়গঞ্জ ব্লকের কাচিমুহা জুনিয়র হাই স্কুলে। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে খাতায়-কলমে পরুয়ার সংখ্যা ৩০,শিক্ষক রয়েছেন তিনজন। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা গিয়ে দেখলেন ক্লাস ঘরে বসে আছে একজন মাত্র ছাত্রী। বাকি গোটা ক্লাস ঘরই ফাঁকা। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন এই চিত্র শুধু একদিনের নয় রোজকার।

তাদের দাবি বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনিয়মিত হাজিরা, সুষ্ঠ পঠনপাঠন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সহ একাধিক অসুবিধার কারণে দিনকে দিন পড়ুয়ার সংখ্যা কমছে বিদ্যালয়টিতে। গ্রামের একাধিক শিক্ষার্থী পার্শ্ববর্তী মালঞ্চা হাই স্কুলে ভর্তি হলেও এই বিদ্যালয়মুখী হতে চায় না। তাদের দাবি অবিলম্বে বিদ্যালয়টির পঠন-পাঠনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সচেষ্টা হোক শিক্ষক থেকে প্রশাসন।

যদিও এ সকল অভিযোগ খুব একটা মানতে রাজি নন স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মৃণাল ভানু দত্ত। তিনি বলেন এ বছর একাধিক উদ্যোগ নেওয়া সত্বেও পড়ুয়াদের স্কুলমুখী করা যাচ্ছে না।

ঘটনার সম্পর্কে বিস্তারিত শুনে রায়গঞ্জের মহকুমা শাসক কিংশুক মাইতি বলেন, শিক্ষা উপযোগী বিভিন্ন সরকারি সাহায্য থাকা সত্ত্বেও পরুয়ারা বিদ্যালয়মুখী না হওয়াটা খুবই দুঃখজনক। তিনি জানান, ‘ শিক্ষকদের সঠিক পাঠদানের পাশাপাশি এলাকায় জনসংযোগের দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।’

শিক্ষাবিদ তথা রহতপুর হাই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক শহীদুর রহমান এধরনের ঘটনার বাস্তবতাকে মেনে নিলেও ,এর জন্য ভ্রান্ত সরকারী শিক্ষানীতি, অভিভাবক এবং শিক্ষক উভয়েরই সরকারি বিদ্যালয় সম্পর্কে উদাসীনতাকে দায়ী করেন।

News Britant
Author: News Britant

Leave a Comment

Choose অবস্থা